স্টাফ রিপোর্টার:
যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে কয়েকটি গাড়িতে ধাক্কা দেয়। এতে বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৫৮ মিনিটে পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মিয়ামিতে পৌঁছানোর পর বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বোয়িং ৭৬৭-৩০০ মডেলের বিমানটি অ্যামাজনের প্রাইম এয়ারের ফ্লাইট ৭৫৯৮ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছিল।
মিয়ামি-ডেড কাউন্টির ফায়ার চিফ রে জাদাল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। অন্য দুজনকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, রানওয়ে থেকে ছিটকে যাওয়ার পর বিমানটি কয়েকটি গাড়িতে আঘাত করে। এতে কয়েকজন গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। তাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকারী দল কাজ করে। একটি গাড়ির নিচে আটকে পড়া একজনকেও উদ্ধার করা হয়।
দুর্ঘটনার পর বিমানের ভেতরে আটকে থাকা পাইলট ও কো-পাইলটকে উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। ঘটনাস্থলে প্রায় ৬০টি দমকলের গাড়ি এবং মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউ বিভাগের প্রায় ২০০ সদস্য উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কাজে অংশ নেন।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বিমানের ইঞ্জিনের অংশে লাগা আগুন নেভাতে ফোম ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি হ্যাজম্যাট (বিপজ্জনক পদার্থ ব্যবস্থাপনা) দলের সদস্যরা বিমানের ইঞ্জিন নিরাপদে বন্ধ করা এবং ছড়িয়ে পড়া জ্বালানি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।
ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্তে তাদের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিমান দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে এনটিএসবি ও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) তদন্ত করবে।
অ্যামাজন এক বিবৃতিতে জানায়, অবতরণের সময় তাদের বিমানটি একটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। তবে প্রাথমিক বিবৃতিতে হতাহত সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। পরে অ্যামাজনের মুখপাত্র কেলি ন্যান্টেল জানান, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে কয়েক ঘণ্টা বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি এবং বেশ কিছু ফ্লাইটে বিলম্ব ও বাতিলের ঘটনা ঘটে। পরে চারটি রানওয়ের মধ্যে দুটি আবার চালু করা হয়।
মিয়ামি শেরিফ রোজি কোরদেরো-স্টুটজ জানান, দুর্ঘটনার পর জননিরাপত্তার জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি নেই।
এদিকে মিয়ামির মেয়র ড্যানিয়েলা লেভিন কাভা জরুরি সেবাকর্মীদের দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫
Oplus_131072
React:




