আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের ঘোষিত পাল্টা সামরিক অভিযান শুরুর মাত্র দুই দিনেই যুদ্ধের ময়দানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দাবি করা হয়েছে। ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামের এই অভিযানে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের কাছ থেকে লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পুনর্দখলের দাবি করেছে সরকারি বাহিনী।
সরকারকে সমর্থন দেওয়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট প্রণালির নিরাপত্তায় প্রায় ১০০টি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। বিমানগুলো দিন-রাত অভিযান চালাচ্ছে। এর জবাবে হুথিরাও সৌদি ভূখণ্ডে হামলার দাবি করেছে।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে এটিই সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনা। প্রায় চার বছর ধরে সংঘাতটি কার্যত স্থবির অবস্থায় ছিল। এখন উভয় পক্ষই আবার নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ডের মানচিত্র বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
আগামী দিনগুলোতে এই অভিযান কতটা সফল হবে, তা শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে কতটুকু এলাকা দখল করা হলো তার ওপর নির্ভর করবে না। সরকারি বাহিনীর মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা এবং হুথিদের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার খরচ সম্পর্কে নতুন করে হিসাব করতে বাধ্য করতে পারাও হবে বড় পরীক্ষা।
হুথিদের একাধিক ফ্রন্টে ব্যস্ত রাখা
এই অভিযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল। এর গুরুত্ব শুধু ইয়েমেনের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে নয়, এর সঙ্গে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি ও নৌবাণিজ্যের নিরাপত্তাও জড়িত।
ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত করে এবং একই সময়ে হুথিরা বাব আল-মান্দেবের ইয়েমেনি উপকূল নিয়ন্ত্রণে রাখে, তাহলে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথ হিসেবে কাজ করলেও ইয়ানবু বন্দর থেকে এশিয়ার বাজারে পাঠানো অপরিশোধিত তেলকে শেষ পর্যন্ত বাব আল-মান্দেব অতিক্রম করতে হয়।
ফলে প্রণালির ইয়েমেনি উপকূল হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা মানে সৌদি আরবের বিকল্প জ্বালানি রপ্তানি পথও ঝুঁকির মধ্যে থাকা। উপদ্বীপের দুই প্রান্ত একই সঙ্গে চাপে পড়ুক, এমন পরিস্থিতি সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় কোনো দেশই দীর্ঘ সময় মেনে নিতে চাইবে না।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। এ বছর বাব আল-মান্দেবের কাছে হুথিদের দখলে যাওয়া এলাকাগুলোই তাদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে পরিণত হতে পারে। হুথিদের ঐতিহ্যগত শক্তি মূলত উত্তর ইয়েমেনের পাহাড়ি এলাকায়। সেখানে দুর্গম ভূপ্রকৃতি, স্থানীয় গোত্রগুলোর নেটওয়ার্ক এবং তুলনামূলক ছোট সরবরাহপথ তাদের প্রতিরক্ষায় সুবিধা দেয়।
এর বিপরীতে তিহামা উপকূল বিস্তৃত সমতল এলাকা। এটি হুথিদের প্রধান পাহাড়ি ঘাঁটি থেকে দূরে এবং দীর্ঘ সরবরাহপথের ওপর নির্ভরশীল। বিমান হামলা ঠেকানোর মতো প্রাকৃতিক আড়ালও এখানে কম।
তাই সরকারি বাহিনী যদি কোথাও দ্রুত ও বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করতে পারে, সেটি এই উপকূলীয় এলাকাতেই। এর জন্য হুথিদের পুরোপুরি পরাজিত করা জরুরি নয়। বরং বাব আল-মান্দেব থেকে তাদের পেছনে ঠেলে দেওয়া, কাছের দ্বীপগুলো পুনর্দখল করা এবং প্রণালির ভৌগোলিক অবস্থানকে আঞ্চলিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ কেড়ে নেওয়াই তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্ট তায়েজ। হুথি নিয়ন্ত্রিত উত্তর, সরকারি নিয়ন্ত্রিত দক্ষিণ এবং পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে শহরটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হুথিরা যদি এডেনের সঙ্গে তায়েজের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখতে পারে, তাহলে বৃহত্তর সামরিক অভিযান কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে থাকবে। আর সরকারি বাহিনী যদি এই যোগাযোগ পুনরায় চালু করতে পারে, তাহলে এডেন, তায়েজ ও উপকূলীয় অঞ্চলের মধ্যে একটি ধারাবাহিক যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি হবে।
তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্ট মারিব প্রদেশ। সেখানে রাঘওয়ান এলাকায় সংঘর্ষ বেড়েছে। একই সঙ্গে আল-জাওফও ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে।
ইয়েমেন সরকারের বক্তব্যে বড় ধরনের সামরিক অগ্রযাত্রার ইঙ্গিত থাকলেও এখনই রাজধানী সানায় সরাসরি অভিযান চালানোর সম্ভাবনা কম। বরং বাস্তবসম্মত কৌশল হতে পারে ধীরে ধীরে চাপ বাড়ানো। উপকূল, তায়েজ ও মারিবে একই সময়ে চাপ তৈরি করা গেলে হুথিদের জনবল, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও রসদ এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত করা কঠিন হবে।
সরকারি বাহিনীর জন্য তাই প্রতিটি ফ্রন্টে বড় সাফল্য অর্জন করা জরুরি নয়। মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত হুথিদের একাধিক যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যস্ত রাখা।
অস্ত্র ও সমর্থনের চেয়ে বড় সমস্যা ঐক্য
ইয়েমেন সরকার এর আগেও বিদেশি সমর্থনের অভাবে ভোগেনি। সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ দীর্ঘদিন ধরে তাদের সামরিক ও রাজনৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছে। কিন্তু সেই সহায়তাকে একটি সমন্বিত ইয়েমেনি সামরিক শক্তিতে রূপান্তর করতে না পারাই সরকারের অন্যতম বড় দুর্বলতা।
এবার সৌদি আরবের স্বার্থ আরও সরাসরি জড়িয়ে গেছে। সৌদি আরামকোর স্থাপনা হামলার মুখে পড়ছে, সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথও ঝুঁকিতে পড়েছে। প্রায় ১০০টি যুদ্ধবিমান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত থেকেই বোঝা যায়, রিয়াদ এবার বড় ধরনের সামরিক বিনিয়োগে প্রস্তুত।
কিন্তু বিমানশক্তি কোনো এলাকা দখল করে রাখতে পারে না। বিমান হামলা শত্রুর অবস্থান ধ্বংস করতে, সরবরাহপথ কেটে দিতে বা সেনা সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে পারে। দখল করা এলাকা ধরে রাখতে প্রয়োজন স্থলবাহিনী, কার্যকর প্রশাসন এবং একটি অভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব।
এখানেই সরকারি শিবিরের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।
দক্ষিণাঞ্চলীয় ট্রানজিশনাল কাউন্সিল বা এসটিসি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণাঞ্চলে নিজস্ব অভিযান শুরু করেছিল। সৌদি-সমর্থিত পাল্টা অভিযানের পর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সংগঠনটি বিলুপ্ত হয় এবং এর নেতা এইদারুস আল-জুবাইদি দেশ ছাড়েন। তবে ওই সংগঠনের অধীনে যুদ্ধ করা দক্ষিণাঞ্চলীয় সশস্ত্র ইউনিটগুলো এখনো অস্ত্রধারী ও সক্রিয়। তাদের আনুগত্যও ইয়েমেন সরকারের প্রতি নিঃশর্ত নয়।
এর পাশাপাশি তায়েজ ও মারিবে ইসলামপন্থী ইস্লাহ পার্টির সঙ্গে যুক্ত ইউনিট, উপকূলীয় এলাকায় তারেক সালেহর ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স এবং সাউদার্ন জায়ান্টস ব্রিগেডসহ বিভিন্ন বাহিনী আলাদা নেতৃত্ব, আঞ্চলিক স্বার্থ ও বিদেশি পৃষ্ঠপোষকের সঙ্গে যুক্ত।
অন্যদিকে হুথিদের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব তুলনামূলকভাবে কেন্দ্রীভূত।
এই পার্থক্যই সরকারি অভিযানের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। বিভিন্ন বাহিনী যদি আলাদা কমান্ডে যুদ্ধ চালায়, তাহলে সামরিক সাফল্য দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। দখল করা এলাকা, অর্থনৈতিক সম্পদ ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব নিয়ে নিজেদের মধ্যেই বিরোধ তৈরি হলে হুথিরা সেই সুযোগে পুনর্গঠিত হয়ে পাল্টা আক্রমণ চালাতে পারে।
সরকারি বাহিনী ইতিমধ্যে পুনর্দখল করা এলাকায় বেতন পরিশোধ ও পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি সঠিক পদক্ষেপ। বিমান হামলার মাধ্যমে কোনো শহর দখল করার পর সেখানে যদি সরকারি কর্মীদের বেতন না দেওয়া হয়, প্রশাসন কার্যকর না থাকে এবং সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা না পায়, তাহলে সেই নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘস্থায়ী করা কঠিন হবে।
এটি কি যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে পারবে?
এই অভিযানের সাফল্য বিচার করার মাপকাঠি শুধু সানা দখল করা হওয়া উচিত নয়। সেটি হবে অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য এবং সেই মানদণ্ডে অভিযানকে ব্যর্থ মনে হওয়ার ঝুঁকিও থাকবে।
বরং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এই অভিযান কি যুদ্ধকে রাজনৈতিক সমাধানের দিকে নিয়ে যেতে পারবে?
সংঘাত বিশ্লেষণের ভাষায়, কোনো পক্ষ তখনই গুরুত্ব দিয়ে আলোচনায় বসে, যখন তারা মনে করে চলমান সংঘাত উভয় পক্ষের জন্যই অসহনীয় অবস্থায় পৌঁছেছে। ২০২২ সালের পরের স্থবিরতা ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ, সরকার, সৌদি আরব এবং আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও হুথিদের ওপর এর চাপ তুলনামূলকভাবে কম ছিল। বরং তারা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ পেয়েছে যে সময় তাদের পক্ষেই কাজ করছে।
সেই অর্থে ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানের প্রকৃত উদ্দেশ্য হুথিদের পুরোপুরি পরাজিত করা নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার মূল্য তাদের জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি করে তোলা।
তবে এখানেও বড় একটি জটিলতা রয়েছে। হুথিদের সিদ্ধান্ত এখন আর শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ওপর নির্ভর করছে না। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত এবং তাদের সম্ভাব্য সমঝোতার সঙ্গেও হুথিদের অবস্থান জড়িয়ে গেছে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্ষতির মুখেও হুথি নেতৃত্ব নমনীয় নাও হতে পারে, যদি তারা মনে করে বড় কোনো আঞ্চলিক সমঝোতার অংশ হিসেবেই ছাড় দিতে হবে।
অর্থাৎ ইয়েমেনে একটি সমাধান কতটা সম্ভব, তার একটি অংশ নির্ভর করতে পারে এমন একটি আঞ্চলিক সমঝোতার ওপর, যার নিয়ন্ত্রণ ইয়েমেনিদের হাতে নেই।
আগামী কয়েক সপ্তাহে চারটি বিষয় বিশেষভাবে নজরে রাখতে হবে। সরকারি বাহিনী বাব আল-মান্দেবের উপকূল ও আশপাশের দ্বীপগুলো দখল করে ধরে রাখতে পারে কি না; তায়েজ-এডেন সড়ক পুনরায় খুলতে পারে কি না; উপকূল ও মারিব রক্ষায় হুথিদের তায়েজ থেকে সেনা সরাতে বাধ্য করা যায় কি না; এবং পুনর্দখল করা এলাকাগুলো একটি অভিন্ন কমান্ডের অধীনে এনে সেখানে বেতন ও সরকারি সেবা নিশ্চিত করা যায় কি না।
এসবের বেশির ভাগ বাস্তবায়িত হলে ইয়েমেনের যুদ্ধের কৌশলগত ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু সরকারি বাহিনী যদি সামান্য অগ্রগতির পরই থেমে যায়, বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে অথবা নিজেদের মধ্যেই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে হুথিরা আবারও দাবি করতে পারবে যে বিদেশি সমর্থন পাওয়া আরেকটি সামরিক অভিযান তারা টিকে থেকে মোকাবিলা করেছে। এতে তাদের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে।
এর মধ্যেই ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, আগস্টের শুরু থেকে ৫ হাজারের বেশি মানুষ হতাহত হয়েছে। প্রায় ২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং সন্দেহভাজন কলেরার সংক্রমণও কয়েক গুণ বেড়েছে।
মানবিক পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া তাই সরকারের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে। ২০১৮ সালে হোদেইদা পুনর্দখলের অভিযানের সময়ও মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সরকারি বাহিনীকে অভিযান থামাতে হয়েছিল।
তাই বর্তমান অভিযান নিজে কোনো চূড়ান্ত মোড় নয়। এটি বরং একটি বড় পরীক্ষার সূচনা। এই যুদ্ধে ইয়েমেন সরকারকে প্রমাণ করতে হবে, বিদেশি সামরিক সহায়তাকে তারা একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক কর্তৃত্ব এবং দীর্ঘস্থায়ী সামরিক শক্তিতে রূপ দিতে পারে কি না।
সেটি করতে ব্যর্থ হলে হুথিরা আরও একবার এই বিশ্বাস নিয়ে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসবে যে, শেষ পর্যন্ত সময় তাদের পক্ষেই কাজ করে।




