যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে সরকারি ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে একটি বিল আইনে পরিণত হয়েছে। এর ফলে ধর্মীয় এ দুই উৎসব পালনে কর্মীরা তাদের বিদ্যমান বেতনসহ ছুটির সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।
এবি ২০১৭ নামের বিলটি গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামী ধর্মীয় ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায় ও বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতায় চলতি বছরের মার্চে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের কাছে বিলটি উত্থাপন করেন স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য ম্যাট হ্যানি। খবর এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের।
বিলটি কার্যকর হওয়ার ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার স্কুল ও সরকারি কর্মস্থলগুলো মুসলিমদের ধর্মীয় বিশ্বাস পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ তৈরি করতে পারবে। ফলে কর্মজীবন বা শিক্ষাজীবনের দায়িত্বের কারণে ধর্মীয় উৎসব পালনে তাদের যে সমস্যায় পড়তে হতো, তা কমবে।
কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (কেয়ার-সিএ) ক্যালিফোর্নিয়া শাখার তথ্য অনুযায়ী, বিলটির প্রণেতা ম্যাট হ্যানি। এর সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছে কেয়ার-সিএ, ক্যালিফোর্নিয়া কমিশন অন এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার আমেরিকান অ্যাফেয়ার্স এবং মুসলিম ইমপ্যাক্ট কাউন্সিল।
কেয়ার-সিএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এবি ২০১৭ রাজ্য ও স্কুলের কর্মীদের তাদের বিদ্যমান ব্যক্তিগত ছুটির সুবিধা বা ছুটির সময় ব্যবহার করে ঈদ পালনের সুযোগ দিচ্ছে।
এ ছাড়া বিলটি কে-১২ স্কুল ও কমিউনিটি কলেজগুলোকে স্থানীয়ভাবে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমে ঈদ উপলক্ষে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার অনুমতিও দিয়েছে।
বিলটি পাস হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে কেয়ার-সিএ। সংগঠনটির দাবি, এর মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী ১০ লাখের বেশি মুসলিমের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস পালন এবং স্কুল বা কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার মধ্যে অনেককে এতদিন একটি বিষয় বেছে নিতে হতো বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।
কেয়ার-সিএর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এবি ২০১৭ পাস হওয়া আমেরিকান-মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঘটেছে। ঈদের ছুটিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়া তার মুসলিম সম্প্রদায়ের মূল্য দেয় এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে, এমন একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও সংগঠনটি উল্লেখ করেছে।
ইসলামি বর্ষপঞ্জির নবম মাস রমজান শেষে পালিত হয় ঈদুল ফিতর। আর জিলহজ মাসে পালিত হয় ঈদুল আজহা। বিশ্বের মুসলিমরা ধর্মীয় উৎসাহ, ভক্তি ও আনন্দের সঙ্গে এই দুই পবিত্র উৎসব পালন করেন।




