Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
আন্তর্জাতিক

নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা: সর্বশেষ পরিস্থিতি কী?

নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা: সর্বশেষ পরিস্থিতি কী?

ড্যানিয়েল খলিলি ।। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় নিউইয়র্কে কাতারের মধ্যস্থতায় সর্বশেষ দফার যোগাযোগ হয়েছে। তবে আলোচনার এজেন্ডা কী হবে, তা নিয়ে এখনো দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মঙ্গলবার নিউইয়র্ক ত্যাগ করেছেন। এর আগে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে তিনি বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিনের শেষ নাগাদ ওয়াশিংটনের কাছ থেকে পাওয়ার আশা করছেন।

ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে নিলে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করলে, জব্দ থাকা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ ছাড় করলে এবং লেবাননসহ বৃহত্তর অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে ভূমিকা রাখলে তেহরান সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে। গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়।

ইরানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এরপরই বৃহত্তর শান্তি আলোচনা শুরু হবে। সেই আলোচনায় দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে আরাগচি বলছেন, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে তিনি এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রত্যাখ্যানপত্র পাননি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, ওয়াশিংটন ধাপে ধাপে সমাধানের পরিবর্তে একটি সমন্বিত চুক্তি চায়। সেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ দুই দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ বিরোধ একই সঙ্গে নিষ্পত্তির চেষ্টা থাকবে।

কাতারের মধ্যস্থতায় কী আলোচনা হয়েছে?

সোমবার নিউইয়র্কে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং এরপর বৃহত্তর শান্তি আলোচনায় যাওয়া।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি বলেন, আলোচনায় শুধু হরমুজ প্রণালির বিষয় নিয়েই কথা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে—এমন কোনো তথ্য তিনি পাননি।

আরাগচির ভাষ্য অনুযায়ী, কাতারের পক্ষ থেকে কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং কাতার এখন বিষয়টি আবারও মার্কিন পক্ষের কাছে তুলবে। এরপর ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত অবস্থান কাতারের মাধ্যমে তেহরানকে জানানো হবে।

তিনি বলেন, আলোচনা আগের তুলনায় আরও ‘গুরুতর’ পর্যায়ে গেলেও ইরানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়ে তেহরানের শর্ত স্পষ্ট এবং অন্যান্য বিষয়েও তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত।

ইরানের বর্তমান প্রস্তাবে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতার কিছু বিষয়ও রয়েছে। তবে সেই সমঝোতা দ্রুত ভেঙে পড়ে।

ট্রাম্প কি ইরানের কিছু দাবি মেনে নিতে পারেন?

গত সপ্তাহে মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সমাধান ছাড়া ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিতে যেতে রাজি নন। তবে পারমাণবিক বিষয়ে অগ্রগতি হলে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করা এবং দেশটির জব্দ সম্পদের একটি অংশ ছাড়ার বিষয়ে তিনি রাজি হতে পারেন বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

এরপর সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসও জানায়, পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার বিনিময়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে নিষেধাজ্ঞা থেকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে আরও জানায়, পরোক্ষ আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ হয়েছে এবং ইরান পারমাণবিক ইস্যুতে কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছে।

তবে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ওই প্রতিবেদনকে ‘হোক্স’ বা মিথ্যা তথ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি অ্যাক্সিওসকে প্রতিবেদনটি সরিয়ে নেওয়ারও দাবি জানান।

ইরানের ওপর কয়েক দশক ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা সংকটের কথা বলা হয়েছে।

আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ইরান এবং ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশ ও প্রতিষ্ঠানের ওপর আরও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যুদ্ধের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে তেহরানকে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করাই ছিল ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য।

যুক্তরাষ্ট্র কী চায়?

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর আগে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ওমানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছিল। সেই আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিও ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কিন্তু আলোচনা শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এর পরপরই ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল না। কিন্তু যুদ্ধের পর এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিরোধের অন্যতম প্রধান ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে উভয় পক্ষের অবরোধের কারণে জলপথটির কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত।

যুদ্ধ চলাকালে ট্রাম্প বারবার ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে হলে দুই পক্ষকে প্রথমে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মতপার্থক্য দূর করতে হবে। বিশেষ করে কোন বিষয় আগে এবং কোন বিষয় পরে আলোচনায় আসবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ইরান চায় প্রথমে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও জব্দ সম্পদ ছাড় করাতে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করতে। এরপর পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করতে চায় তেহরান।

জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতায় মোটামুটি এই ধারাবাহিকতাই ছিল। কিন্তু সেই সমঝোতা টেকেনি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় সব বিষয় একই সঙ্গে আলোচনার টেবিলে থাকুক। পারমাণবিক ইস্যুসহ অন্যান্য বিরোধ নিষ্পত্তির আগে হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা বা জব্দ সম্পদ নিয়ে কোনো আলাদা সমঝোতায় যেতে ওয়াশিংটন আগ্রহী নয়।

ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিনের যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক স্কট লুকাসের মতে, বর্তমান অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানকে বড় ধরনের ছাড় দিতে বাধ্য করতে চাইছে।

তার মতে, হরমুজ প্রণালি এখন আলোচনার মৌলিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জুনের সমঝোতায় প্রণালিটির ব্যবস্থাপনায় ইরানের একটি ভূমিকা স্বীকার করা হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন সেই সমঝোতার ভিত্তি থেকে সরে যাওয়ার পর ইরানের জন্য বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে।

লুকাসের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র যদি ওই সমঝোতার ভিত্তিতে বা তার সংশোধিত কোনো কাঠামোয় আলোচনায় ফিরে আসে, তাহলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখে নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করার কৌশল নিলে অচলাবস্থা আরও দীর্ঘ হতে পারে।

ইরান কী চায়?

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রায় অর্ধশতাব্দীর বৈরিতার পর ইরান এই যুদ্ধ থেকে পাওয়া কৌশলগত সুবিধাগুলো ধরে রাখতে চাইছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার সক্ষমতা।

ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর হরমুজ প্রণালি পুরো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। এর মাধ্যমে ইরান আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পেরেছে এবং একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

যুদ্ধের আগে এই জলপথের ওপর ইরানের এমন নিয়ন্ত্রণ ছিল না। বাণিজ্যিক জাহাজগুলো স্বাভাবিকভাবেই সেখানে চলাচল করত।

তাই তেহরান মনে করছে, বৃহত্তর শান্তি আলোচনায় যাওয়ার আগে হরমুজকে নিজেদের প্রধান দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা প্রয়োজন।

আরাগচি বলেছেন, এই মুহূর্তে ইরানের আলোচনার বিষয় একটিই—হরমুজ প্রণালি। তবে প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরান অন্য পক্ষের কাছে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত দিয়েছে।

ইরানের গভর্ন্যান্স অ্যান্ড পলিসি থিংক ট্যাংকের সেন্টার ফর ইন্টেলেকচুয়াল ডিপ্লোমেসির পরিচালক আলী সালেহিয়ান বলেন, জুনের পাকিস্তান-মধ্যস্থ সমঝোতার অভিজ্ঞতার কারণে তেহরান ভবিষ্যৎ কোনো চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়ে সন্দিহান।

তার মতে, ইরানের কাছে ভবিষ্যৎ যেকোনো আলোচনার মূল বিষয় হলো জুনের সমঝোতা বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা। তেহরানের দৃষ্টিতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে, তাহলে নতুন কোনো চুক্তি কতটা টেকসই হবে, তারও নিশ্চয়তা নেই।

এরপর কী হতে পারে?

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বর্তমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা দ্রুত কাটার সম্ভাবনা স্পষ্ট নয়।

যুদ্ধের পুরো সময়জুড়েই উভয় দেশ জানিয়েছে, তারা কূটনৈতিক সমাধানকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে বেশি পছন্দ করে। তবে ট্রাম্প ইরানকে চুক্তিতে রাজি করাতে না পারলে নতুন করে হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন। অন্যদিকে আরাগচিও জানিয়েছেন, কূটনীতির দরজা খোলা থাকলেও ইরান প্রয়োজনে আবার যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।

রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তার জন্য ইরান প্রস্তুত। এমনকি পরিস্থিতি চরম পর্যায়ে গেলেও তেহরান প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে বলে তিনি জানান।

ট্রাম্প গত সপ্তাহে বলেছিলেন, একটি চুক্তি হতে পারে, তবে সেটি নভেম্বরের ৩ তারিখের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

এদিকে দুই পক্ষের মধ্যে গভীর অবিশ্বাসই সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি হয়ে আছে। ইরানের কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্প আবারও আরও বড় পরিসরে যুদ্ধ শুরু করতে পারেন এবং ইসরায়েলও তাতে অংশ নিতে পারে।

এই আশঙ্কা সত্যি হলে ইরান নির্বাচনের আগেই সংঘাত আবার শুরু করার কথা বিবেচনা করতে পারে বলে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন। তাদের যুক্তি, নির্বাচনের ঠিক আগে যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বেশি পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি এর আগে আল জাজিরাকে বলেন, ইরানের নেতৃত্ব যদি মনে করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র আবার বড় ধরনের হামলা চালাবে, তাহলে তারা নির্বাচনের আগেই সংঘাত শুরু করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সর্বোচ্চ চাপ তৈরি করা যায়।

এই মুহূর্তে তাই আলোচনার মূল প্রশ্ন দুটি: হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত এবং ইরান তার বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় কতটা এগোতে রাজি হবে। এই দুই অবস্থানের মধ্যে সমঝোতা না হলে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও দীর্ঘ অচলাবস্থায় পড়তে পারে। – আল জাজিরা থেকে বাংলায় রুপান্তরিত

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies