আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জাপানের পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী টাইফুন দুজুয়ানের প্রভাবে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। ঝড়ের প্রভাবে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও যোগাযোগব্যবস্থায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) টাইফুন দুজুয়ান ঘণ্টায় প্রায় ১৪৪ কিলোমিটার গতিবেগের বাতাস নিয়ে টোকিওর কাৎসুরা এলাকা থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। পরে এটি উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ঝড়ের প্রভাবে জাপানের পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। কোথাও কোথাও বন্যার পানি ঢুকে পড়ে এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটে।
জাপানের বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার বাড়িঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঝড়ের আশঙ্কায় প্রায় ১৬ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে টোকিওর আশপাশের এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানায়।
বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার আশঙ্কা
জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরের দিকে টাইফুনটি উপকূল থেকে কিছুটা দূরে সরে যায় এবং বাতাসের গতিও কমে আসে। এরপর ঝড়টি উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আলেউটিয়ান দ্বীপপুঞ্জের দিকে যেতে থাকে।
তবে ঝড়ের কেন্দ্র সরে গেলেও এর প্রভাবে অনেক এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। জেএমএর কর্মকর্তা তাকুয়া হোসোমি সতর্ক করে বলেছেন, ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর দিকে সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের ঝুঁকি থেকে যেতে পারে।
জেএমএ এর আগে সতর্ক করে জানিয়েছিল, ঝড়টি আঘাত হানার আগেই বৃষ্টি ও বাতাসের তীব্রতা বাড়তে পারে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত কোনো কোনো এলাকায় যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হতে পারে, তা সেপ্টেম্বর মাসের গড় মাসিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বাতিল শত শত ফ্লাইট, বন্ধ ট্রেন চলাচল
টাইফুনের প্রভাবে জাপানের বিমান ও রেল যোগাযোগেও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। ঝোড়ো আবহাওয়ার কারণে সোমবার জাপান এয়ারলাইন্সের ১৩৫টি এবং অল নিপ্পন এয়ারওয়েজের ১৪০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এতে হাজার হাজার যাত্রী বিভিন্ন বিমানবন্দরে আটকা পড়েন।
এদিকে জাপান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড় ও ভারী বৃষ্টির কারণে বেশ কয়েকটি রেল পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। টোকিও ও ওসাকার মধ্যে চলাচলকারী গুরুত্বপূর্ণ বুলেট ট্রেন পরিষেবাতেও এর প্রভাব পড়ে।
পর্যটন এলাকাও পানির নিচে
টাইফুন দুজুয়ানের প্রভাবে জাপানের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা কামাকুরাতেও বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে কামাকুরা স্টেশনের সামনের সড়ক পানিতে তলিয়ে থাকতে দেখা গেছে।
কামাকুরার মেয়র তাকাশি মাতসুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানান, শহরের বিভিন্ন অংশে পানি জমে যাওয়ায় গাড়ি নিয়ে চলাচল বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
টোকিওর পূর্বদিকে অবস্থিত ইচিকাওয়া এলাকার বিভিন্ন স্থানেও বন্যার পানি জমে যায়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়।
বাতিল হয়েছে বড় আয়োজন
টাইফুনের কারণে জাপানের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া আয়োজনেও প্রভাব পড়ে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গেমিং প্রদর্শনী ‘টোকিও গেম শো’-এর শেষ দিনের আয়োজন সোমবার নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ ছাড়া চিবা এলাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা একটি বড় আউটডোর মিউজিক ফেস্টিভ্যালও বাতিল করা হয়েছে। একই কারণে একটি বেসবল ম্যাচও বাতিল করা হয়।
চলতি বছরে জাপানে ২৫তম টাইফুন
দুজুয়ান চলতি বছর জাপানে আঘাত হানা ২৫তম টাইফুন। গ্রীষ্মের শেষভাগ ও শরতের শুরুতে জাপানে প্রায়ই শক্তিশালী টাইফুন আঘাত হানে। এসব ঝড়ের সঙ্গে ভারী বৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ও ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
টাইফুন দুজুয়ানের কেন্দ্রীয় অংশ জাপানের উপকূল থেকে সরে গেলেও ভারী বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের আশঙ্কা থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে
জাপানে টাইফুন দুজুয়ানের তাণ্ডব, নিহত ৪; নিখোঁজ ৬
Oplus_131072
React:




