Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
ইতিহাস

বাহাদুর শাহ জাফর: ভারতের শেষ মুসলিম সম্রাটকে যেভাবে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল ব্রিটিশরা

বাহাদুর শাহ জাফর: ভারতের শেষ মুসলিম সম্রাটকে যেভাবে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল ব্রিটিশরা

মোহাম্মদ শাবান আইয়ুব ।। ভারতীয় উপমহাদেশে তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে শাসন করা মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাসে ১৮৫৭ সাল এক করুণ অধ্যায়ের নাম। এ বছর ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের পরিণতিতে ক্ষমতাচ্যুত হন শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর। ব্রিটিশদের হাতে তাঁর বন্দিত্ব, পরিবারের সদস্যদের হত্যা এবং নির্বাসনের মধ্য দিয়ে কার্যত অবসান ঘটে মুঘল শাসনের। একসময় যে সাম্রাজ্য ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতি, শিল্প, স্থাপত্য ও সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব রেখেছিল, তার শেষ সম্রাটকে জীবনের শেষ দিনগুলো কাটাতে হয় নিজ দেশ থেকে বহু দূরে, নিঃসঙ্গ অবস্থায়।

মুঘল শাসনামলের বহু স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শন আজও সেই অতীতের সাক্ষ্য বহন করছে। দিল্লির জামে মসজিদ, তাজমহল, অসংখ্য স্থাপত্যকীর্তি এবং ফারসি, উর্দু, আরবি ও অন্যান্য ভাষায় রচিত পাণ্ডুলিপি সেই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু সাম্রাজ্যের শেষ পর্যায়ে এসে রাজপরিবারের হাতে আর আগের মতো রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতা অবশিষ্ট ছিল না।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উত্থান

সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুতে ভারত ও এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলের বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইউরোপীয় শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়ে ওঠে। ১৬০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথমে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ভারতীয় উপমহাদেশে আসে। ধীরে ধীরে তারা ব্যবসার গণ্ডি ছাড়িয়ে সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা বিস্তারে মনোযোগী হয়।

কোম্পানির এই সম্প্রসারণের পেছনে ছিল বিপুল সম্পদ ও বাণিজ্যিক মুনাফার আকাঙ্ক্ষা। আলোচনার মাধ্যমে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করলেও প্রয়োজন অনুযায়ী তারা সামরিক শক্তি, প্রতারণা ও রাজনৈতিক কূটকৌশল ব্যবহার করেছে। স্থানীয় শাসকদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা, বিরোধীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং নিজেদের অনুগত ব্যক্তিদের ক্ষমতায় বসানোর মধ্য দিয়ে তারা ভারতীয় রাজনীতিতে প্রভাব বাড়াতে থাকে।

আঠারো শতকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি একটি শক্তিশালী সামরিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ডাচ, ফরাসি ও পর্তুগিজ প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সংঘাতের পাশাপাশি তারা ভারতীয় শাসকদের অভ্যন্তরীণ বিরোধেও হস্তক্ষেপ করে। বাংলার মীর জাফর ছিলেন এমন এক শাসক, যাঁকে ব্রিটিশরা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছিল। তাঁর ক্ষমতায় আরোহণের মধ্য দিয়ে বাংলায় কোম্পানির প্রভাব বিস্তারের পথ আরও প্রশস্ত হয়।

ধীরে ধীরে ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। বাণিজ্যিক আধিপত্যের পর সামরিক দখলদারত্বের মাধ্যমে ব্রিটিশরা উপমহাদেশে নিজেদের শাসন সুসংহত করতে থাকে।

দুর্বল মুঘল সাম্রাজ্য ও বাহাদুর শাহ জাফর

১৮৩৭ সালে মুঘল সম্রাট হন বাহাদুর শাহ জাফর। তবে তাঁর হাতে কার্যকর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ছিল খুবই সীমিত। তিনি দিল্লির লালকেল্লায় বসবাস করতেন, কিন্তু ব্রিটিশদের প্রভাবের বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে শাসন পরিচালনা করার সুযোগ তাঁর ছিল না। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তাঁর মৃত্যুর পর লালকেল্লাকে সামরিক কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনাও করছিল।

বাহাদুর শাহ জাফর ছিলেন মুসলিম শাসক হলেও হিন্দু, শিখসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে সহাবস্থানের নীতি অনুসরণের চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর শাসনামলে ব্রিটিশদের প্রতি ভারতীয়দের অসন্তোষ বাড়তে থাকে। অর্থনৈতিক শোষণ, বৈষম্যমূলক আচরণ, করের বোঝা এবং স্থানীয় সমাজ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি ঔপনিবেশিক কর্তৃপক্ষের অবজ্ঞা মানুষের ক্ষোভকে গভীর করে তোলে।

বয়স ও রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে বাহাদুর শাহ জাফরের পক্ষে ব্রিটিশ সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই করা সহজ ছিল না। তবু ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ তাঁকে এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি করে, যা মুঘল সাম্রাজ্যের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ

১৮৫৭ সালের ১০ মে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনাদের বিদ্রোহ শুরু হয়। এই বিদ্রোহের পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় অসন্তোষ। তাৎক্ষণিক উত্তেজনার অন্যতম কারণ ছিল নতুন ধরনের রাইফেলের কার্তুজে গরু ও শূকরের চর্বি ব্যবহারের অভিযোগ। কার্তুজের মুখ দাঁত দিয়ে ছিঁড়তে হতো। গরু হিন্দুদের কাছে পবিত্র এবং শূকর মুসলমানদের কাছে ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ হওয়ায় এই অভিযোগ ভারতীয় সেনাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করে।

বিদ্রোহ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ১১ মে বিদ্রোহী সেনারা দিল্লিতে পৌঁছে লালকেল্লায় প্রবেশ করেন। তাঁরা বাহাদুর শাহ জাফরকে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণের আহ্বান জানান। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল মুঘল সম্রাটের ঐতিহাসিক মর্যাদাকে কাজে লাগিয়ে ব্রিটিশবিরোধী প্রতিরোধকে একটি অভিন্ন প্রতীকের অধীনে সংগঠিত করা।

বয়সে প্রবীণ এবং রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হলেও বাহাদুর শাহ জাফর বিদ্রোহীদের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেননি। তাঁর সমর্থন বিদ্রোহীদের মনোবল বাড়িয়ে দেয়। লালকেল্লা পরিণত হয় বিদ্রোহের অন্যতম কেন্দ্রস্থলে। মুসলমান ও হিন্দু বিদ্রোহীদের পাশাপাশি কৃষক, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন শ্রেণির মানুষও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন।

তবে বিদ্রোহীদের মধ্যে সামরিক সমন্বয় ও সুসংগঠিত নেতৃত্বের অভাব ছিল। অন্যদিকে ব্রিটিশদের হাতে ছিল প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী, উন্নত অস্ত্র এবং শক্তিশালী সামরিক কাঠামো। ফলে প্রতিরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলেও শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহীরা পরাজিত হন।

ব্রিটিশ বাহিনী বিদ্রোহ দমনে ব্যাপক সহিংসতা চালায়। বহু মানুষ নিহত হন, বিভিন্ন অঞ্চল অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং খাদ্য ও পানির সংকটে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। বিদ্রোহের পরিণতি শুধু সামরিক পরাজয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এর মাধ্যমে মুঘল রাজপরিবারের অবশিষ্ট ক্ষমতাও বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যায়।

সম্রাটের বন্দিত্ব ও পরিবারের ওপর নির্মমতা

বিদ্রোহে বাহাদুর শাহ জাফরের সমর্থনকে ব্রিটিশরা রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে বিবেচনা করে। তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের আটক করা হয়। বন্দিত্বের সময় ব্রিটিশ কর্মকর্তা উইলিয়াম হডসন সম্রাটের দুই ছেলে ও এক নাতিকে গুলি করে হত্যা করেন বলে ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।

সম্রাটকে বন্দি করে রাখা হয়। তাঁর পরিবারের ওপর নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। একটি বহুল প্রচলিত বিবরণ অনুযায়ী, তাঁর নিহত ছেলেদের ও নাতির কাটা মাথা পাত্রে করে তাঁর সামনে আনা হয়েছিল। প্রথমে সেগুলোকে খাবার মনে করলেও পাত্র খুলে সন্তানদের মাথা দেখে তিনি গভীর শোকের মুখোমুখি হন। এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তাঁর একটি উক্তিও বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনায় পাওয়া যায়, যদিও এর সঠিক শব্দচয়ন নিয়ে সূত্রভেদে পার্থক্য রয়েছে।

১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ ছিল মুঘলদের জন্য ভারতের শাসনক্ষমতা পুনরুদ্ধারের শেষ বড় প্রচেষ্টা। বিদ্রোহ দমনের পর ব্রিটিশরা বাহাদুর শাহ জাফরকে বিচারের মুখোমুখি করে। তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহে অংশ নেওয়া, ষড়যন্ত্র এবং ব্রিটিশ সেনাদের হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়।

নির্বাসনের নিঃসঙ্গ জীবন

বিচারের পর বাহাদুর শাহ জাফরকে তাঁর পরিবার ও অনুগতদের কয়েকজনের সঙ্গে বার্মার রেঙ্গুনে, বর্তমান মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে নির্বাসনে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁর জীবন হয়ে ওঠে বন্দিত্ব, অনটন ও নিঃসঙ্গতার প্রতিচ্ছবি।

ব্রিটিশ লেখক উইলিয়াম ডালরিম্পলের ‘দ্য লাস্ট মুঘল’ বইয়ে নির্বাসিত সম্রাট ও তাঁর পরিবারের দুর্দশার বিবরণ রয়েছে। তাঁদের অল্প কয়েকটি কক্ষের একটি সাধারণ বাড়িতে কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছিল। দিনের বেলায় ও রাতে প্রহরী মোতায়েন থাকত। বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগও ছিল অত্যন্ত সীমিত।

পরিবারের সদস্যদের জন্য বরাদ্দ অর্থ ছিল সামান্য। খাবার ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতেই তাঁদের হিমশিম খেতে হতো। পোশাকের অবস্থাও ছিল শোচনীয়। একসময় যাঁরা রাজপ্রাসাদে বসবাস করতেন, তাঁদের জীবনের শেষ অধ্যায় কাটে অভাব ও অপমানের মধ্যে।

বয়সজনিত দুর্বলতার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের হারানোর বেদনাও তাঁকে তাড়িয়ে বেড়াত। নির্বাসনে তাঁর জীবনের বড় অংশ কাটে নিঃসঙ্গতায়। ধর্মীয় অনুশীলন ও কবিতার চর্চা হয়ে ওঠে মানসিক যন্ত্রণা সামলানোর অন্যতম অবলম্বন।

তাঁর দুই ছেলে মির্জা ও শাহ আব্বাসও নির্বাসিত জীবনে স্বাভাবিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। মুঘল রাজপরিবারের উত্তরাধিকারী হয়েও তাঁরা এমন পরিবেশে বেড়ে ওঠেন, যেখানে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ ছিল সীমিত।

শেষ সম্রাটের মৃত্যু

১৮৬২ সালের ৭ নভেম্বর ৮৭ বছর বয়সে রেঙ্গুনে মৃত্যুবরণ করেন বাহাদুর শাহ জাফর। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মুঘল সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাটের জীবনের অবসান ঘটে। তাঁকে ইয়াঙ্গুনের শ্বেদাগন প্যাগোডার কাছে একটি সাধারণ কবরে সমাহিত করা হয় বলে ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।

তাঁর মৃত্যুর পর ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের কাঠামো আরও সুসংহত হয়। ১৮৫৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছ থেকে ভারতের শাসনভার সরাসরি ব্রিটিশ রাজমুকুটের হাতে চলে যায়। ফলে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রত্যক্ষ শাসনের অধীনে আসে।

পরবর্তী সময়ে বাহাদুর শাহ জাফরের সমাধি ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার নতুন করে আলোচনায় আসে। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে বিভিন্ন স্থানের নামকরণ ও স্মৃতিচিহ্নের মধ্য দিয়ে তাঁর নাম সংরক্ষিত হয়েছে।

সম্রাটের পরিচয়ের আরেক দিক: কবি বাহাদুর শাহ জাফর

বাহাদুর শাহ জাফর কেবল একজন সম্রাট ছিলেন না, তিনি ছিলেন উর্দু ও ফারসি ভাষার কবি। তাঁর কবিতায় প্রেম, আধ্যাত্মিকতা, বেদনা, নিঃসঙ্গতা এবং হারিয়ে যাওয়া জীবনের আকুতি প্রকাশ পেয়েছে। নির্বাসিত জীবনের দুঃখ তাঁর সাহিত্যিক পরিচয়কে আরও গভীর করে তুলেছে।

রাজনৈতিক ক্ষমতা হারানোর পরও তাঁর কবিতা মানুষের স্মৃতিতে টিকে আছে। তাঁর জীবন একদিকে একটি সাম্রাজ্যের পতনের ইতিহাস, অন্যদিকে ঔপনিবেশিক শাসনের নির্মমতা ও নির্বাসনের মানবিক বেদনার দলিল।

বাহাদুর শাহ জাফরের পরিণতি স্মরণ করিয়ে দেয়, ইতিহাসে সাম্রাজ্যের উত্থান-পতনের পেছনে শুধু রাজনীতি ও যুদ্ধ নয়, থাকে অসংখ্য মানুষের জীবন, স্বপ্ন, ক্ষতি ও দীর্ঘশ্বাস।- আলজাজিরা

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies