Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
অন্যান্য

অংশীদারত্বের আড়ালে আফ্রিকাকে নির্ভরশীল করে তুলছে রাশিয়া

অংশীদারত্বের আড়ালে আফ্রিকাকে নির্ভরশীল করে তুলছে রাশিয়া

তাফি মাখাকা ||

চলতি সপ্তাহে মস্কোয় অনুষ্ঠিত হচ্ছে তৃতীয় রাশিয়া-আফ্রিকা শীর্ষ সম্মেলন। মহাদেশজুড়ে অর্থনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যে আফ্রিকার নেতাদের একত্র করছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কিন্তু আফ্রিকায় রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব সাধারণ মানুষের জন্য যে সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পূরণের চেয়ে মস্কোর নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা এবং মিত্র শাসকদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতেই বেশি ভূমিকা রাখছে।

বৃহস্পতিবার সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পুতিনের সঙ্গে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করার কথা বুরুন্ডির প্রেসিডেন্ট এভারিস্তে এনদাইশিমিয়ের। তিনি বর্তমানে আফ্রিকান ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি দুই দিনের অর্থনৈতিক ও মানবিক ফোরামে বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন, খাদ্যনিরাপত্তা, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও অর্থ পরিশোধব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হবে। আয়োজকেরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে কর্মসূচির কেন্দ্রে রেখেছেন। ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত সহযোগিতার নতুন পরিকল্পনাও নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাশিয়া একে বলছে ‘পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা’।

গত ২০ আগস্ট রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা মস্কো সম্মেলনে নতুন করে বেশ কিছু আন্তসরকারি চুক্তি ও বাণিজ্যিক সমঝোতা সইয়ের পরিকল্পনার কথা জানান। ২০১৯ সালের অক্টোবরে সোচিতে অনুষ্ঠিত প্রথম সম্মেলনে ৯২টি চুক্তি হয়েছিল। তখন পুতিন বছরে ৪০ বিলিয়ন ডলারে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন। চার বছর পর, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সম্মেলনে আরও ১৬১টি সমঝোতা হয় এবং ২০২৩-২০২৬ মেয়াদের একটি কর্মপরিকল্পনা গৃহীত হয়।

কিন্তু অর্থনৈতিক বাস্তবতা রাশিয়ার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে মেলেনি। ২০২৩-২০২৬ মেয়াদের কর্মপরিকল্পনার সময়সীমা যখন শেষের দিকে, তখন রাশিয়ার নিজস্ব বাণিজ্য পরিসংখ্যানেই দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালে আফ্রিকার সঙ্গে দেশটির পণ্যবাণিজ্যের পরিমাণ ছিল মাত্র ২৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। অথচ পুতিনের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল ৪০ বিলিয়ন ডলার।

২০২৬ সালেও বাণিজ্যের ভারসাম্যহীনতা অব্যাহত রয়েছে। বছরের প্রথম আট মাসে আফ্রিকায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে রাশিয়া। বিপরীতে আফ্রিকা থেকে আমদানি করেছে মাত্র ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

কৃষিপণ্য রপ্তানি এই বিশাল বাণিজ্যঘাটতির অন্যতম কারণ। শুধু ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই আফ্রিকায় ১০ দশমিক ২ মিলিয়ন টন গম পাঠিয়েছে রাশিয়া। এ ক্ষেত্রে রাশিয়ার অন্যতম বড় ক্রেতা মিসর। আফ্রিকার খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব সরবরাহের বাস্তব প্রয়োজন রয়েছে। তবে গম ও সার রপ্তানির মাধ্যমে রাশিয়ার উৎপাদকরা যে পরিমাণ লাভবান হচ্ছেন, আফ্রিকার শিল্পায়ন ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তার সমতুল্য অবদান দেখা যাচ্ছে না।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও চুক্তি স্বাক্ষর আর প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। ২০১৯ সালের সম্মেলনে রাশিয়ার সার উৎপাদক প্রতিষ্ঠান উরালকেম ও অ্যাঙ্গোলার গ্রুপো ওপাইয়া ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া কারখানা নির্মাণে সম্মত হয়েছিল। ২০২৩ সালে উৎপাদন শুরুর কথা থাকলেও ওই বছরই প্রকল্পটি থেকে সরে দাঁড়ায় উরালকেম।

মিসরে অবশ্য রাশিয়ার বিনিয়োগে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। দেশটির এল দাবা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে চারটি চুল্লি নির্মাণ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটম। প্রকল্পটিতে ১৮ হাজারের বেশি মিসরীয় কর্মী কাজ করছেন। তবে এর অর্থায়নের বড় অংশ আসছে রাশিয়ার দেওয়া ২৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ থেকে। সুদসহ এই অর্থ মিসরকে পরিশোধ করতে হবে।

রাশিয়ার অর্থায়নে প্রকল্প এগোলেও চুক্তির শর্তই নির্ধারণ করে দেয়, শেষ পর্যন্ত কারা লাভবান হবে, আর্থিক ঝুঁকি কে বহন করবে এবং সরকারি আয় কীভাবে ভাগ হবে।

কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে পয়েন্ত-নোয়ার থেকে রাজধানী ব্রাজাভিল পর্যন্ত জ্বালানি তেলজাত পণ্য পরিবহনের একটি পাইপলাইন নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। এতে রুশ স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষের হাতে যৌথ উদ্যোগের ৯০ শতাংশ মালিকানা এবং কঙ্গোর রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির হাতে ১০ শতাংশ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রস্তাবে ২৫ বছরের জন্য পরিচালনার অধিকার এবং নির্ধারিত পরিবহন মাশুলের নিশ্চয়তাও রয়েছে।

গত এপ্রিলে রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানান, চলতি বছর প্রকল্পটির নকশার কাজ শুরু হবে এবং ২০২৯ সালে কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। রুশ কর্মকর্তারা পাইপলাইনটিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানের পর পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলা করে জ্বালানি রপ্তানি সুরক্ষিত রাখার একটি উপায় হিসেবেও তুলে ধরেছেন।

অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি আফ্রিকায় সামরিক উপস্থিতিও বাড়াচ্ছে রাশিয়া। ৮ অক্টোবর সুইডেনের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে, আফ্রিকার ৩৯টি দেশের সঙ্গে রাশিয়ার অন্তত ৫৭টি সামরিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক চুক্তি রয়েছে। এসব চুক্তির অনেকগুলোর বাস্তব প্রয়োগ সীমিত হলেও কিছু চুক্তির মাধ্যমে সামরিক প্রশিক্ষণ এবং সামরিক অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

শুরুতে ক্রেমলিন-সংশ্লিষ্ট ভাড়াটে যোদ্ধাদের সংগঠন ওয়াগনার গ্রুপের ওপর নির্ভর করেছিল রাশিয়া। পরে তাদের অনেক কার্যক্রম প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-নিয়ন্ত্রিত আফ্রিকা কর্পসের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে ওয়াগনারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। রুশ সদস্যরা বিশেষত মালি ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে মিত্র সরকারগুলোকে সরাসরি সামরিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং সুরক্ষা দিয়ে আসছেন।

রাশিয়ার সামরিক সহায়তার সীমাবদ্ধতা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে মালিতে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে ওয়াগনার যোদ্ধা ও মালির সেনারা দেশটির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাঞ্চলীয় শহর কিদাল দখল করেন। কিন্তু ২০২৬ সালের এপ্রিলে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের কাছে শহরটি হারান তাঁরা। পরে ৬ অক্টোবর বিমান হামলার পর বিদ্রোহীরা সরে গেলে রুশ-সমর্থিত বাহিনী আবার শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

রাশিয়া মালির সেনাবাহিনীকে ভূখণ্ড পুনর্দখলে সহায়তা করেছে। কিন্তু দেশটির সাধারণ মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি।

আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত মালির সেনাবাহিনী ও রাশিয়ার আফ্রিকা কর্পস ৪৯টি বিমান হামলা চালায়। এতে ৮৯ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন বলে সংস্থাটির হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুলাই মধ্য মালির মপতি অঞ্চলের বোমবোরি গ্রামে আফ্রিকা কর্পসের যোদ্ধারা চার শিশুসহ নয়জনকে হত্যা করেন এবং বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেন।

বেসামরিক মানুষের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত মধ্য মালির সেভারে সামরিক ঘাঁটিতে আটক ব্যক্তিদের মারধর, বৈদ্যুতিক শক এবং পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটির প্রতিবেদনে মালির সেনাসদস্য ও আফ্রিকা কর্পসের সদস্যদের বিরুদ্ধে এসব নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাত এবং তাদের দমনে নিয়োজিত বাহিনীর মাঝখানে আটকে পড়া সাধারণ মানুষের জন্য রাশিয়ার সামরিক সহায়তা তাই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা হয়ে উঠতে পারেনি। বরং তাদের অভিজ্ঞতায় যুক্ত হয়েছে সহিংসতার নতুন ঝুঁকি।

অন্যদিকে, এই অঞ্চলের মিত্র শাসকদের কাছে রাশিয়া নিজেদের কার্যকর সহযোগী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

গত ২৯ আগস্ট নাইজারের জেনারেল আবদুররহমানে তিয়ানির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর একটি বিদ্রোহ দমনে সহায়তা করে রাশিয়ার আফ্রিকা কর্পস। রুশ সেনারা স্থল ও আকাশপথে সহায়তা দেন। মস্কোর রাষ্ট্রদূতও এ ভূমিকার কথা নিশ্চিত করেন।

তিয়ানির সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকলেও নাইজারের জনগণ এখনো রাজনৈতিক দল ও নির্বাচনের সময়সূচি থেকে বঞ্চিত। নাগরিক স্বাধীনতাও কঠোরভাবে সীমিত। গত ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাসনে থাকা আরও পাঁচ সমালোচকের নাগরিকত্ব বাতিল করে জান্তা সরকার।

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রেও প্রেসিডেন্ট ফস্তাঁ-আর্চাঞ্জ তোয়াদেরার ক্ষমতা সুসংহত করতে সহায়তা করেছে মস্কো। ক্ষমতায় তাঁর ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে। গত ৫ মার্চ তোয়াদেরা ব্যক্তিগতভাবে পুতিনকে ধন্যবাদ জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি জয়ী হতে পেরেছেন। বিরোধীরা অবশ্য নির্বাচন বর্জন করেছিল। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসেন।

ওয়াগনারের ভাড়াটে যোদ্ধারা এখনো তোয়াদেরা সরকারকে সুরক্ষা দিচ্ছেন। একই সময়ে রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন চলছে এবং সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারের ঝুঁকি রয়েছে। রুশ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে বেসামরিক মানুষ হত্যা, নির্যাতন ও হামলার অভিযোগও রয়েছে।

তোয়াদেরা সরকারকে সুরক্ষা দেওয়ার ধারাবাহিকতায় ওয়াগনারের পরিবর্তে আফ্রিকা কর্পস মোতায়েনের জন্য মস্কো মাসে প্রায় ১৪ মিলিয়ন ইউরো বা ১৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার দাবি করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের স্বর্ণসম্পদ থেকে লাভবান হচ্ছে।

আফ্রিকার মানুষের কাছে পৌঁছানো তথ্য ও সংবাদ নিয়ন্ত্রণেও মিত্র সরকারগুলোকে সহায়তা করছে রাশিয়া। গত জুলাইয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটি মালি, নাইজার ও বুরকিনা ফাসোর সামরিক সরকার পরিচালিত নতুন টেলিভিশন চ্যানেল তাফুক টিভির সঙ্গে কনটেন্ট বিনিময় চুক্তি করে।

সেপ্টেম্বর থেকে বামাকোতে সম্প্রচার শুরু করা চ্যানেলটি সামরিক সরকারের সাফল্য তুলে ধরছে। তবে বিদ্রোহীদের হামলার ঘটনা অনেক সময় উপেক্ষিত থাকছে। অন্যদিকে, স্থানীয় সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার, গুম ও সেন্সরশিপের মুখে পড়তে হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের বাইরেও আফ্রিকার জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে মস্কো। ফ্রান্স ২৪-এর ৩ এপ্রিলের এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকার ৩৫টি সংবাদমাধ্যমে রাশিয়ার পক্ষে লেখা প্রায় ৬৫০টি নিবন্ধ প্রকাশের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ফাঁস হওয়া নথিতে প্রতিটি নিবন্ধের জন্য ২৫০ থেকে ৭০০ ডলার পর্যন্ত অর্থ দেওয়ার তথ্য রয়েছে। কিছু সংবাদমাধ্যমের অজান্তেই রুশ প্রতিনিধিরা এসব লেখা প্রকাশের ব্যবস্থা করেছিলেন বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়।

রাশিয়ার প্রভাব বিস্তারের তৎপরতা সংবাদমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নয়। গত জুলাইয়ে অ্যাঙ্গোলার একটি আদালত আফ্রিকা পলিটোলজি নামের ক্রেমলিন-সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকারী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত দুই রুশ নাগরিককে সন্ত্রাসবাদ ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। তাঁদের বিরুদ্ধে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদকে কাজে লাগিয়ে সরকারবিরোধী অস্থিরতা উসকে দেওয়া এবং ২০২৭ সালের নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

ইগর রাতচিনকে ১১ বছর এবং লেভ লাকশতানভকে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে দুজনই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।

আফ্রিকায় রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এমন এক অসম ও অস্থিতিশীল সম্পর্ককে গভীর করছে, যেখানে মস্কো মহাদেশটির খনিজ সম্পদে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার পাচ্ছে, সামরিক অবস্থান শক্তিশালী করছে এবং উদার রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন মিত্র শাসকদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করছে।

অন্যদিকে, সাধারণ আফ্রিকানদের বহন করতে হচ্ছে নিরাপত্তাহীনতা, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং উন্নয়নের অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির বোঝা। যৌথ সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার পরিবর্তে ক্রেমলিন আফ্রিকার সম্পদ ও রাজনৈতিক দুর্বলতাকে নিজেদের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগাচ্ছে।

ঐতিহাসিক সম্পর্কের অজুহাত দেখিয়ে কোনো শক্তিকেই জবাবদিহির ঊর্ধ্বে রাখা যায় না।

মস্কো সম্মেলনে আফ্রিকার নেতাদের উচিত যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চীনের কাছে যে মানদণ্ড দাবি করেন, রাশিয়ার কাছেও তা-ই দাবি করা। সেই মানদণ্ডের মধ্যে থাকতে হবে ন্যায্য বাণিজ্য, উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং বেসামরিক মানুষের ওপর নির্যাতনের জন্য জবাবদিহি।

আফ্রিকার মানুষের জীবনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies