Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
অন্যান্য

রামেবি উপাচার্যকে জোর করে পদত্যাগ করানোর অভিযোগে বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

রামেবি উপাচার্যকে জোর করে পদত্যাগ করানোর অভিযোগে বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাওয়াদুল হককে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আব্দুস সালাম (৫৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গভীর রাতে রাজশাহী নগরীর প্যারামেডিক্যাল এলাকার নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আব্দুস সালাম রাজপাড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি বলে জানা গেছে।

বুধবার রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গাজীউর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মামলার ভিত্তিতে আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, রামেবি উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসেন মঙ্গলবার রাতে রাজপাড়া থানায় মামলা করেন। পরে রাতেই মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। ওই মামলায় আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার উপাচার্যের কার্যালয়ে ঢুকে তাঁকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করার ঘটনায় রাজশাহী মহানগর কৃষক দলের সভাপতি শরীফুজ্জামান শামীমের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই দলে রাজশাহী মহানগর বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আল মোস্তাক শাহীন, মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামাল এবং জিয়া মঞ্চের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বুলবুল ও লাল্টুও ছিলেন বলে কর্মকর্তারা জানান।

এদিকে উপাচার্যকে জোর করে পদত্যাগ করানোর প্রতিবাদে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে ‘রাজশাহীর সর্বস্তরের চিকিৎসক সমাজ’-এর ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, একটি ন্যক্কারজনক মব তৈরি করে অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, চিকিৎসকদের রোগীদের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার করার কথা। অথচ ঘটনার প্রতিবাদে তাঁদের রাস্তায় দাঁড়াতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

মানববন্ধনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক তাসমিয়া আক্তারও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, মব তৈরি করে একজন শিক্ষককে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষক বা চিকিৎসককে এভাবে অপমানিত হতে না হয়, সে দাবি জানান তিনি।

এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ২০ থেকে ৫০ জনের একটি দল রামেবি উপাচার্যের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সময় অধ্যাপক জাওয়াদুল হক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান নির্মাণকাজ নিয়ে ভার্চুয়াল সভায় অংশ নিচ্ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, দলটি উপাচার্যকে কোনো কিছু পড়ার সুযোগ না দিয়ে একটি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে চাপ দেয়। এ সময় তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসেন বাধা দিলে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে তিনি নিয়মিত কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জানালেও তাঁকেও একটি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, দলটি উপাচার্য ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীর স্বাক্ষর করা দুটি পদত্যাগপত্র নিয়ে যায়। একই সঙ্গে উপাচার্যের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপও নিয়ে নেওয়া হয়।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা দেখতে পান, উপাচার্যের কার্যালয়ের সিসিটিভি সরঞ্জাম খুলে নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও অন্যান্য যোগাযোগব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন করা হয়। কয়েকটি কক্ষে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাওয়াদুল হক জানান, ওই দলটি জোর করে তাঁর কাছ থেকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেয়, তাঁকে কার্যালয় থেকে বের করে দেয় এবং পরে কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেয়। পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানান এবং অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies