রাশেদুল ইসলাম রনি |
জামালপুরের বকশীগঞ্জে মৃত দেলোয়ার হোসেন মাস্টারের মরদেহে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা (গার্ড অব অনার) প্রদানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের পক্ষ থেকে তাঁকে ‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানে আপত্তি জানানো হয়। পরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের প্রক্রিয়া স্থগিত করে। শেষ পর্যন্ত গার্ড অব অনার ছাড়াই পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে ঢাকার অরোরা স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দেলোয়ার হোসেন মাস্টার। বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নে নিজ বাড়িতে তাঁর দাফনের সময় নির্ধারণ করা হয়। এ উপলক্ষে মরদেহে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের প্রস্তুতিও নেয় উপজেলা প্রশাসন।প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। তবে পথে স্থানীয় কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানে আপত্তি জানান।মরহুমের ছেলে শামীম মিয়া বলেন, ‘আমার বাবা ২০১৫ সাল থেকে মুক্তিযোদ্ধার সব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছেন। একটি মহল বাবার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করলে হাইকোর্ট ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে বাবাকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বাবার মৃত্যুর পর তাঁরা কেন বাধা দিলেন, তা বুঝতে পারছি না।’তবে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার নওশেদ আলী দাবি করেন, দেলোয়ার হোসেন মাস্টার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন। তাঁর নাম নিয়মবহির্ভূতভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। নওশেদ আলী বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষার্থেই তাঁরা রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের প্রক্রিয়ায় আপত্তি জানিয়েছেন।সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা উল হুসনা বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের সব প্রস্তুতি নিয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পথে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি ও বাধা আসায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।এদিকে, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত গার্ড অব অনার ছাড়াই পারিবারিক কবরস্থানে দেলোয়ার হোসেন মাস্টারের দাফন সম্পন্ন হয়।

