Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
অন্যান্য

সম্পাদকীয়: চূড়ান্ত সুপারিশের পরও অনশন কেন?

সম্পাদকীয়: চূড়ান্ত সুপারিশের পরও অনশন কেন?

চাকরির জন্য একজন প্রার্থীর দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া সহজ নয়। বছরের পর বছর পড়াশোনা, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ধাপ পেরিয়ে যখন একজন প্রার্থী জানতে পারেন যে তিনি চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার জীবনে নতুন আশার সূচনা হয়। কিন্তু সেই আশার পরও যদি নিয়োগপত্র পাওয়ার জন্য তাকে সরকারি দপ্তরের বারান্দায় বসে অনশন করতে হয়, তাহলে প্রশ্ন ওঠে শুধু ওই ৫১ জন প্রার্থীকে নিয়ে নয়, আমাদের নিয়োগব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়েও।

জামালপুরে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৩৬ জনের মধ্যে প্রথম ধাপে ৮৪ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। পরে দ্বিতীয় ধাপে আরও একজন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। ফলে একই প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও ৫১ জন এখনো নিয়োগপত্রের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই বৈষম্যই তাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চূড়ান্ত সুপারিশের অর্থ কী? যদি একজন প্রার্থী সব যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় ধাপ শেষে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন, তাহলে তার নিয়োগপত্র আটকে থাকার কারণ কী, সেটি স্পষ্টভাবে জানানো প্রশাসনের দায়িত্ব। কোনো প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে সেটিও প্রার্থীদের জানাতে হবে। নথি যাচাই, অনুমোদন কিংবা দাপ্তরিক কোনো প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থাকলে তার সুনির্দিষ্ট কারণ, সম্ভাব্য সময়সীমা এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য থাকা প্রয়োজন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ৫১ জন প্রার্থীর নথি নিয়ে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে কাজ করছেন এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিষয়টির একটি ফলাফল আসতে পারে। এটি আশাব্যঞ্জক বক্তব্য। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, প্রার্থীদের কেন অপেক্ষা করতে হলো এবং কেন বিষয়টি সমাধানের জন্য তাদের অনশনে যেতে হলো?

একজন চাকরিপ্রার্থীর কাছে সময়ের মূল্য অনেক। বয়সসীমা, পারিবারিক দায়িত্ব, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির পর চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও যদি নিয়োগের নিশ্চয়তা নিয়ে তাকে রাজপথে বসতে হয়, তাহলে তার মানসিক ও আর্থিক চাপ সহজেই অনুমান করা যায়। বিশেষ করে যখন একই নিয়োগ প্রক্রিয়ার অন্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছেন।

তবে এই পরিস্থিতিতে প্রার্থীদের দাবির পাশাপাশি প্রক্রিয়ার আইনগত ও প্রশাসনিক দিকও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রত্যেকের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো পৃথক যাচাই, নথিগত সমস্যা বা সরকারি অনুমোদনের প্রয়োজন আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট করতে হবে। কারণ স্বচ্ছতার অভাবই অনেক সময় গুজব, ক্ষোভ ও অবিশ্বাস তৈরি করে।

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies