হাসপাতাল এমন একটি স্থান, যেখানে মানুষ সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা প্রত্যাশা করে। অসুস্থ মানুষ চিকিৎসা নিতে আসবেন, স্বজনেরা পাশে থাকবেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নির্ধারিত পরিবেশে সেবা দেবেন, এটিই স্বাভাবিক। কিন্তু জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেই স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে।
হাসপাতালের বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ, ডায়রিয়া ওয়ার্ড, ডেলিভারি ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থানে কুকুরের অবাধ বিচরণের খবর নিছক একটি পরিচ্ছন্নতার সমস্যা নয়। এটি রোগী, স্বজন ও হাসপাতালকর্মীদের নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদের চলাচলের জায়গায় একাধিক কুকুরের দলবেঁধে ঘোরাফেরা উদ্বেগের কারণ হওয়াই স্বাভাবিক।
সরেজমিনে হাসপাতালের ফ্লোরে কুকুর শুয়ে থাকার দৃশ্যও দেখা গেছে। রোগী ও স্বজনদের বক্তব্যে বোঝা যায়, কুকুর তাড়িয়েও সব সময় সরানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা একজন মানুষকেই যদি হাসপাতালের ভেতরে চলাচলের সময় কুকুরের ভয় করতে হয়, তাহলে সেটি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার জন্য বিব্রতকর।
এখানে শুধু কুকুরের উপস্থিতি নয়, হাসপাতাল চত্বরে তারা কীভাবে প্রবেশ করছে এবং কেন তাদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেই, সেই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থাপনায় প্রবেশপথ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, খাবারের উচ্ছিষ্ট সংরক্ষণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়গুলো যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কুকুরের কামড়ের ঝুঁকি যেমন রয়েছে, তেমনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে অবাধ বিচরণ জীবাণু ও সংক্রমণ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ডেলিভারি ওয়ার্ড, ডায়রিয়া ওয়ার্ড কিংবা জরুরি বিভাগের মতো জায়গায় পরিচ্ছন্নতা ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের মানদণ্ড আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন।
সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, জেলায় কুকুরের উৎপাত নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং কুকুরগুলোকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। তবে শুধু টিকাদান করলেই হাসপাতালের ভেতরে কুকুরের অবাধ বিচরণের সমস্যার সমাধান হবে না। একই সঙ্গে হাসপাতাল চত্বর নিরাপদ রাখা, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রশাসনের কাছে তাই বিষয়টি সাময়িকভাবে কুকুর তাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে স্থায়ী ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেখার প্রত্যাশা থাকবে। হাসপাতালের রোগীরা এমনিতেই শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল অবস্থায় থাকেন। তাদের চিকিৎসা নিতে এসে নতুন করে আতঙ্কের মুখোমুখি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হয়তো বড় কোনো আধুনিক হাসপাতাল নয়, কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য সেটিই অনেক সময় সবচেয়ে কাছের এবং গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র। তাই সেখানে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা বিলাসিতা নয়, এটি স্বাস্থ্যসেবার মৌলিক দায়িত্ব।
মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুকুরের অবাধ বিচরণের বিষয়টি দ্রুত সমাধান হোক। একই সঙ্গে জেলার অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও এমন পরিস্থিতি আছে কি না, তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নে প্রশাসনিক তৎপরতা যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর শুরু না হয়, সেটিই সবচেয়ে জরুরি

