দেশের খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বমুখী পরিস্থিতি এবং এস আলম গ্রুপের মতো ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের নতুন করে এলসি খোলার বিশেষ অনুমতি নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ।রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সম্পূরক প্রশ্নে তিনি এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। পরবর্তী তিন মাসে তা ১৭ হাজার ৮৯১ কোটি টাকা বেড়ে জুনে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে শীর্ষ ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বর্তমানে ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক আইনের ২৭ কক(৩) ধারার বিধান লঙ্ঘন করে এস আলমের মালিকানাধীন ‘এসএস পাওয়ার ১ লিমিটেড’-কে ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ ডলারের নতুন এলসি খোলার বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।হান্নান মাসউদ প্রশ্ন করেন, এ ধরনের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে সরকার ঋণখেলাপিদের উৎসাহিত করছে কি না এবং এতে বিদেশি ঋণদাতারা নিরুৎসাহিত হবে কি না।জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আইন ভঙ্গ করে কাউকে ঋণ দিচ্ছে না। আইনে পুনঃতফসিলের সুযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো সেই সুযোগ নিতে পারবে, আর যারা যোগ্য নয় তারা নিতে পারবে না।কোম্পানি ও ব্যক্তির বিচারপ্রক্রিয়া আলাদা করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তার বিরুদ্ধে মামলা ও বিচার হতে পারে। তবে কোম্পানি একটি পৃথক আইনি সত্তা এবং তার কার্যক্রম চালু রাখতে হবে।তিনি বলেন, কোনো কোম্পানির মালিকের দুর্নীতির বিচার ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলবে এবং এতে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে একটি কোম্পানির সঙ্গে বহু মানুষের কর্মসংস্থান ও দেশের অর্থনীতি জড়িত। তাই একজন ব্যক্তির কারণে কোনো কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়া হলে এর নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতিতে পড়বে।অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ইমোশনের ওপর অর্থনীতি চলে না, আইনের ওপর অর্থনীতি চলতে হবে।’ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
বিধান লঙ্ঘন করে এস আলমের প্রতিষ্ঠানকে ঋণ কেন, প্রশ্ন হান্নান মাসউদের
React:




