Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
জাতীয়

বিদেশযাত্রায় লাগামহীন খরচ- ঋণ শোধের দীর্ঘ লড়াই, বিপাকে কর্মীরা

বিদেশযাত্রায় লাগামহীন খরচ- ঋণ শোধের দীর্ঘ লড়াই, বিপাকে কর্মীরা

সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠাতে সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে রিক্রুটিং এজেন্সি ও তাদের মধ্যস্বত্বভোগীদের বিরুদ্ধে। নয়াদিগন্তের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসবক্ষেত্রে- দেশভেদে নির্ধারিত ব্যয়ের পাঁচ থেকে সাত গুণ, এমনকি সিঙ্গাপুর ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে যেতে আট থেকে দশ গুণ পর্যন্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে কর্মীদের। বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণে অনেকে ঋণ নিচ্ছেন, জমি বিক্রি করছেন কিংবা সুদে টাকা ধার করছেন। কিন্তু বিদেশে গিয়ে প্রত্যাশিত কাজ ও বেতন না পাওয়ায় তাঁদের অনেকেই ঋণের টাকা শোধ করতে গিয়ে চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়ছেন।

অভিবাসন বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, একজন কর্মী আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার মধ্যে বিদেশে যেতে পারলে তুলনামূলক কম সময়ে অভিবাসন ব্যয় তুলে পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করা সম্ভব। কিন্তু অতিরিক্ত খরচের কারণে অনেক কর্মীকে কয়েক বছর ধরে ঋণ শোধ করতে হয়। তাঁদের অভিযোগ, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকির ঘাটতি রয়েছে।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর বিদেশগামী কর্মীদের ছাড়পত্র নেওয়ার হার আগের বছরগুলোর তুলনায় কম। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধসহ নানা সংকট এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার বন্ধ থাকায় বিদেশে কর্মী যাওয়ার সুযোগও সংকুচিত হচ্ছে। আবুধাবি, ইরাক, বাহরাইন, ওমান ও লেবাননের শ্রমবাজারে সীমাবদ্ধতার মধ্যে সরকার নতুন করে জাপানে কর্মী পাঠাতে চুক্তি করেছে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর চেষ্টাও চলছে। পাশাপাশি ইতালি, পর্তুগাল, ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বৈধভাবে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে জালিয়াতি ও অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়ের অভিযোগ এসব বাজারেও কর্মীদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।

সরকার নির্ধারিত ব্যয়ের সঙ্গে বাস্তবতার ফারাক

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর কাছে কাকরাইলের রাজমনি ঈশা খাঁ কমপ্লেক্সে অবস্থিত কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের সঙ্গে বাস্তবে কর্মীদের খরচের বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা নয়া দিগন্তকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েতের জন্য সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় প্রায় এক লাখ ৬২ হাজার টাকা। কিন্তু এ টাকায় কর্মী পাঠানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুয়েতে যেতে একজন কর্মীকে আট থেকে নয় লাখ টাকা, সৌদি আরবে পাঁচ থেকে ছয় লাখ এবং কাতারে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। সিঙ্গাপুরে সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় এক লাখ ৬১ হাজার টাকা হলেও ভিসা, প্রশিক্ষণ, থাকা-খাওয়াসহ মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকা।

পূর্ব ইউরোপের সাইপ্রাস, রোমানিয়া, সার্বিয়া ও উত্তর মেসিডোনিয়ায় যেতে খরচ হচ্ছে প্রায় নয় থেকে ১১ লাখ টাকা। আর ইতালিতে যাওয়ার জন্য কর্মীদের গুনতে হচ্ছে ১৮ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। এত টাকা ব্যয় করেও অনেকে প্রতারিত হচ্ছেন। কেউ বিদেশে যাওয়ার আগেই দালালের খপ্পরে পড়ছেন, আবার কেউ গন্তব্যে পৌঁছে প্রতিশ্রুত কাজ পাচ্ছেন না।

এজেন্সি মালিকদের দাবি, ভিসা সংগ্রহ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে ব্যয় বাড়ছে। তবে তাঁদের বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি পক্ষের ভূমিকা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

সিঙ্গাপুরে যেতে ১৪ লাখ টাকার প্রস্তাব

চাঁদপুরের মতলবের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম সিঙ্গাপুরে যাওয়ার কথা ভাবছেন। গত সপ্তাহে নয়া দিগন্তকে তিনি বলেন, দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা ভালো না থাকায় সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে। সিঙ্গাপুরে থাকা ভাগিনার সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন, সেখানে যেতে ভিসা, ঢাকায় প্রশিক্ষণ, থাকা-খাওয়াসহ প্রায় ১৪ লাখ টাকা খরচ হবে।

নজরুলের ভাষ্য অনুযায়ী, সাপ্লাই কোম্পানির মাধ্যমে বৈদ্যুতিক কাজ করার সুযোগের কথা বলা হয়েছে। সব খরচ বাদ দিয়ে মাসে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা আয় করা সম্ভব বলেও তাঁকে জানানো হয়েছে। তবে এ আয়ের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা নিশ্চিত, তা যাচাই করা জরুরি।

সিঙ্গাপুরের বাংলা পত্রিকা বাংলার কণ্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশক এবং অভিবাসন বিশ্লেষক মহসিন গত সপ্তাহে নয়া দিগন্তকে বলেন, সিঙ্গাপুরে যেতে সিন্ডিকেটভুক্ত এজেন্সি ও দালালদের মাধ্যমে কর্মীদের কাছ থেকে ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এত টাকা খরচ করে দেশটিতে যাওয়াকে তিনি ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন।

মহসিনের মতে, সিঙ্গাপুরে থাকা-খাওয়ার ব্যয় মেটানোর পর একজন কর্মীর মাসে সর্বোচ্চ প্রায় ৫০ হাজার টাকা সঞ্চয় হতে পারে। সে হিসাবে অভিবাসন ব্যয়ের টাকা তুলতেই কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। তাঁর মতে, একই অর্থ দেশে ছোট ব্যবসায় বিনিয়োগ করলে কারও কারও জন্য তা বেশি লাভজনক হতে পারে।

কুয়েতে চুক্তির শর্ত না মানার অভিযোগ

কুয়েতে কর্মরত এক বাংলাদেশি শ্রমিক গতকাল নয়া দিগন্তকে জানান, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়ে দেশটিতে গিয়ে অনেক কর্মী চরম সংকটে পড়ছেন। তাঁর অভিযোগ, নতুন ভিসায় কুয়েতে যেতে একজন বাংলাদেশি কর্মীর আট থেকে নয় লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। অথচ কাজের চুক্তি অনুযায়ী বেতন ও কর্মঘণ্টা অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবে মিলছে না।

তিনি বলেন, কোনো কোনো চুক্তিতে দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ ও ৭৫ দিনার বেতনের কথা উল্লেখ থাকে। আবাসনের ব্যবস্থায় একজনের থাকার কথা থাকলেও সেখানে দুই থেকে তিনজনকে থাকতে হচ্ছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে চুক্তিতে ১২ ঘণ্টা কাজ ও ১২০ দিনার বেতনের উল্লেখ থাকলেও দেশটিতে পৌঁছানোর পর কর্মীদের ৭৫ দিনার বেতন দেওয়া হবে বলে জানানো হচ্ছে।

ওই শ্রমিকের হিসাব অনুযায়ী, মাসে ৭৫ দিনার বেতন পাওয়া একজন কর্মীর খাবার ও যাতায়াতে প্রায় ২৫ দিনার ব্যয় হয়। বাকি ৫০ দিনার সঞ্চয় করতে পারলেও বাংলাদেশ থেকে আসতে খরচ হওয়া নয় লাখ টাকা তুলতে প্রায় তিন বছর লেগে যেতে পারে। এ সময় দেশে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপও থাকে।

তিনি আরও বলেন, অনেক কর্মী ঋণ করে বিদেশে আসেন। দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা কিস্তির টাকা চেয়ে ফোন করলে তাঁদের ওপর মানসিক চাপ বাড়ে। এর মধ্যে কেউ কেউ হতাশায় ভেঙে পড়েন। তাঁর দাবি, কিছু কর্মী আত্মহত্যা করছেন, আবার কেউ স্ট্রোকসহ নানা কারণে মারা যাচ্ছেন।

ওই শ্রমিকের অভিযোগ, বাংলাদেশ দূতাবাস কর্মীদের চুক্তিপত্র যাচাই করলেও বিদেশে যাওয়ার পর চুক্তি অনুযায়ী বেতন, কর্মঘণ্টা ও আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট তদারকি নেই। কুয়েতেও মালয়েশিয়ার মতো সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের সিন্ডিকেটের প্রভাব থাকলে কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়।

তবে বিদেশে কর্মীদের মৃত্যু বা আত্মহত্যার ঘটনাগুলোর সঙ্গে অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়ের সম্পর্ক নির্ধারণে প্রতিটি ঘটনার আলাদা তথ্য ও তদন্ত প্রয়োজন।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু নিয়েও অনিশ্চয়তা

বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার মালয়েশিয়া চালুর উদ্যোগ চললেও কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি শুরু করা যায়নি। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, শ্রমবাজারটিতে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের তৎপরতা এবং বিভিন্ন পক্ষের প্রস্তাব ও শর্তের কারণে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দাতো আমিন নুর ও রুহুল আমিন স্বপনের নামও আলোচনায় এসেছে।

শ্রমবাজারটি চালু হলে কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কীভাবে নির্ধারণ করা হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নতুন বাজার চালুর সুযোগ তৈরি হলেও কার্যকর নজরদারি না থাকলে কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঝুঁকি থেকে যায়।

অন্যদিকে ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে তুলনামূলক কম খরচে কর্মী বিদেশে যাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, এসব দেশের কর্মীরা যদি এক থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে বিদেশে যেতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশের কর্মীদের ক্ষেত্রেও অভিবাসন ব্যয় কমানোর উপায় খুঁজে বের করা জরুরি।

অভিবাসন ব্যয় কমাতে কমিটি

অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করে নয়া দিগন্ত। তবে তাঁর ব্যক্তিগত সচিব তরিকুল ইসলাম জানান, সচিব শ্রমবাজার-সংক্রান্ত বিষয়ে বক্তব্য দেবেন না।

পরে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, অভিবাসন ব্যয় কমানোর উপায় নির্ধারণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কীভাবে কর্মীদের বিদেশ যাওয়ার খরচ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, তা নিয়ে কমিটি কাজ করছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এর আগে নয়া দিগন্তকে বলেছিলেন, সরকার বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সংখ্যার চেয়ে দক্ষতাকে গুরুত্ব দিতে চায়। একই সঙ্গে কর্মীরা যাতে কম খরচে বিদেশে যেতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সার্বিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেছিলেন, দূতাবাসের ছাড়পত্র পাওয়া বৈধ কর্মীদের দ্রুত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। কারও কাগজপত্র বা নিয়োগের ক্ষেত্রে সমস্যা থাকলে যাঁরা তাঁদের পাঠানোর চেষ্টা করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নজরদারি ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের দাবি

অভিবাসন বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ব্যয় কার্যকর করতে হলে শুধু নতুন শ্রমবাজার খোলা বা চুক্তি করাই যথেষ্ট নয়। ভিসা সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণ, মেডিকেল পরীক্ষা, যাতায়াত ও নিয়োগের প্রতিটি পর্যায়ে প্রকৃত ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছ করা প্রয়োজন।

রিক্রুটিং এজেন্সি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত, প্রতারণার শিকার কর্মীদের অভিযোগ গ্রহণ এবং বিদেশে পৌঁছানোর পর চুক্তি অনুযায়ী বেতন ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারি দরকার। একই সঙ্গে গন্তব্য দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে কর্মীদের সমস্যা দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিবাসন ব্যয় কমানো গেলে কর্মীদের ঋণের বোঝা কমবে এবং বিদেশে কাজ করে আয় করা অর্থের বড় অংশ পরিবারে পাঠানো সম্ভব হবে। অন্যথায় বিদেশে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে অনেক কর্মীকে দীর্ঘদিন ঋণ পরিশোধের চাপ বহন করতে হবে।

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies