পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে সশস্ত্র শান্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে শহিদ হওয়া হাবিলদার মো. আব্দুল বারী, বীর প্রতীকের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ স্মরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টে ১৯৮৯ সালের ৩ অক্টোবর লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার লামাছড়ি এলাকায় পরিচালিত একটি দুঃসাহসিক অ্যামবুশে হাবিলদার বারীর সাহসিকতার কথা তুলে ধরা হয়।
হাবিলদার মো. আব্দুল বারী ১৯৮৯ সালে তৎকালীন মানিকছড়ি জোনে ২ ইস্ট বেঙ্গল (জুনিয়র টাইগার্স)-এর সঙ্গে কর্মরত ছিলেন। ওই বছরের ৩ অক্টোবর লামাছড়ি এলাকায় সশস্ত্র শান্তিবাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অ্যামবুশ পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন তৎকালীন জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহ মো. সুলতান উদ্দিন ইকবাল।
অপারেশন দলের একটি উপদলে স্কাউট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন হাবিলদার বারী। অ্যামবুশ এলাকায় সশস্ত্র শান্তিবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হলে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে তারা গুলিবর্ষণ শুরু করে। জবাবে সেনাবাহিনীর টহল দলও পাল্টা গুলি চালায়।
গুলিবর্ষণের একপর্যায়ে সশস্ত্র দলের এক সদস্য দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে হাবিলদার বারী তাকে ধাওয়া করেন। ধাওয়ার একপর্যায়ে তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত হওয়ার পরও তিনি পিছু হটেননি। আহত অবস্থাতেই পলায়নের চেষ্টারত ওই সশস্ত্র সদস্যকে গুলি করে ধরাশায়ী করেন।
অপারেশন শেষে গুরুতর আহত হাবিলদার বারীকে উদ্ধার করে জরুরি ভিত্তিতে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন উপস্থিত ক্যাপ্টেন মোজাম্মেলকে তিনি বলেন, “স্যার, কী হবে আর কষ্ট করে, আপনি আমাকে কষ্ট করে নিয়ে যাবেন, শেষ পর্যন্ত কোনো ফল হবে না। আমার পরিবার এবং ছেলে-মেয়েকে আপনাদের হাতে সঁপে গেলাম। ওদেরকে দেখবেন, স্যার।”
এরপরই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
সেনাবাহিনীর পোস্টে বলা হয়, অভিযানের শুরু থেকে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ পর্যন্ত হাবিলদার বারী কর্তব্যপরায়ণতার যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তা পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর অভিযানিক ইতিহাসে গর্বের সঙ্গে স্মরণীয়।




