জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সাংগঠনিকভাবে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদ ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি পুনর্গঠন এবং দায়িত্ব বণ্টনের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনতে ২৩ সদস্যের একটি সাংগঠনিক উপকমিটিও গঠন করেছে দলটি। এর প্রধান করা হয়েছে এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে। রাজনৈতিক পর্ষদ থেকে দুজনকে উপপ্রধান করার পাশাপাশি প্রতিটি বিভাগে একজন করে সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সোমবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রাজনৈতিক পর্ষদের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকটি দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। দলের আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এতে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্যদের বিভিন্ন উপকমিটির প্রধান এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের এসব উপকমিটির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মশালা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকবেন সারজিস আলম, সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ ও সালেহউদ্দিন সিফাত।
এ বিষয়ে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ও মিডিয়াবিষয়ক উপকমিটির প্রধান সারোয়ার তুষার বলেন, ‘বৈঠকে রাজনৈতিক পর্ষদসহ দলের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন এবং দায়িত্ব বণ্টনের রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে। অচিরেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।’
এদিকে দেশের ৬৪ জেলায় কমিটি গঠনের কাজ শেষ হয়েছে। আগামী অক্টোবরের মধ্যে সব উপজেলায় কমিটি গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দেশব্যাপী নৈরাজ্য ও দখলবাজির অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এসব ঘটনার প্রতিবাদে দেশব্যাপী কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। মহানগর, জেলা ও উপজেলা কমিটিকে স্থানীয় বাস্তবতা অনুযায়ী কর্মসূচি নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের মতো আয়োজন থাকতে পারে। এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো প্রার্থী অন্যদের সঙ্গে সমঝোতা করলে তাতে দলের আপত্তি থাকবে না।
এ ছাড়া গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করে সরকার ‘প্রহসনমূলক’ সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করেছে বলে বৈঠকে অভিযোগ করেন দলটির নেতারা। তাদের দাবি, এ ধরনের কমিটি গঠনের মাধ্যমে সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ফাটল তৈরি করেছে। একদলীয় এই কমিটির কোনো গণবৈধতা নেই বলেও বৈঠকে মত দেওয়া হয়। এ দায় সরকারকে নিতে হবে বলে সতর্ক করেন দলটির নেতারা।
বৈঠকে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীসহ রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্যরা।




