নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের পাঠ্যবই দেশের ১৫০ উপজেলায় পৌঁছে গেছে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের সব জেলা ও উপজেলার রিসিভিং পয়েন্টে শতভাগ বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বার্ষিক পরীক্ষা শেষে ছুটিতে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বছরের বই তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ২২ সেপ্টেম্বর যেখানে পাঠ্যবই ছাপার কাজ মাত্র শুরু হয়েছিল, সেখানে এ বছর একই সময়ে দেড় শতাধিক উপজেলায় বই পৌঁছে গেছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিক, প্রাক-প্রাথমিক, মাধ্যমিক, ইবতেদায়ি ও কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের এক কোটির বেশি বই বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সরবরাহ করা হয়েছে।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ বইয়ের চাহিদা রয়েছে। এনসিটিবি জানিয়েছে, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। একই সঙ্গে বইয়ের কাগজ, কালি, গ্লু, বাইন্ডিং, কাটিং ও অন্যান্য উপকরণের মান নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এনসিটিবির নিয়োগ করা প্রি-ডেলিভারি ইন্সপেকশন (পিডিআই) এজেন্টের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাক-প্রাথমিকের ৩৪ লাখ ৭ হাজার ৩৯১ কপি বই বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় পৌঁছেছে। এটি মোট বইয়ের ৫৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ। প্রাথমিকের প্রথম শ্রেণির ২২ লাখ ৫৩ হাজার ১০২ কপি বই সরবরাহ করা হয়েছে, যা মোট বইয়ের ২১ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
প্রাথমিকের দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বই সরবরাহের হার যথাক্রমে ২২ দশমিক ৭৮, ১৭ দশমিক ১৭, ১১ দশমিক ০৩ ও ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। সব মিলিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের ৮ কোটি ১৯ লাখ ৭৮ হাজার ৩৫১ কপি বইয়ের মধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ ৭৪ হাজার ১২৯ কপি বই জেলা ও উপজেলায় পৌঁছে গেছে।
অন্যদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৫১৬টি রিসিভিং পয়েন্টের মধ্যে বাংলা ভার্সনের প্রাক-প্রাথমিকের বই ১৩৮টি উপজেলায় গ্রহণ করা হয়েছে। মোট বইয়ের হিসাবে এ হার ২১ দশমিক ৮০ শতাংশ। এছাড়া প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির বই ৪৪টি উপজেলার রিসিভিং পয়েন্টে গ্রহণ করা হয়েছে।
ডিপিইর বই বিতরণ শাখার তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৮ কোটি ১১ লাখ ৯০ হাজার ২০ কপি বইয়ের মধ্যে ৫ কোটি ৫২ লাখ ৮ হাজার ৬৫৯ কপি বই পিডিআই ছাড়পত্র নিয়ে সরবরাহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এসব বই আগামী দু-এক দিনের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ের রিসিভিং পয়েন্টে পৌঁছে যাবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি বইও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
ইতোমধ্যে গাইবান্ধা, রংপুর, নওগাঁ, পাবনা, বগুড়া, রাজশাহী, সিলেট, হবিগঞ্জ, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, পিরোজপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুরসহ বিভিন্ন জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলায় পাঠ্যবই পৌঁছে গেছে।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঠ্যবই সরবরাহের কাজ এগিয়ে চলছে। সময়ের সঙ্গে কাজের সমন্বয় এবং প্রতিটি ধাপে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেড় শতাধিক উপজেলায় বই পৌঁছে গেলেও বাকি কাজ নিয়ে শৈথিল্যের সুযোগ নেই। সময়মতো সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি মানসম্পন্ন বই নিশ্চিত করতে এনসিটিবি, ইন্সপেকশন এজেন্ট, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অন্যান্য অংশীজন সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।
১৫০ উপজেলায় পৌঁছে গেছে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই
Oplus_131072
React:




