Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
জাতীয়

গাজীপুর-আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, সংঘর্ষ- বন্ধ অনেক কারখানা

গাজীপুর-আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, সংঘর্ষ- বন্ধ অনেক কারখানা

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প এলাকা। শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে অস্বীকৃতি, বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং কারখানায় হামলার আশঙ্কায় সোমবার (২ নভেম্বর) দেশের অন্তত ৬৯০টি তৈরি পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এসব কারখানায় কর্মরত রয়েছেন ১৭ লাখেরও বেশি শ্রমিক। গাজীপুর, কালিয়াকৈর, আশুলিয়া, সাভার ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে দিনভর বিক্ষোভ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহসভাপতি মিজানুর রহমান একটি সংবাদমাধ্যমকে জানান, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সংগঠনটির ৬৭০টি সদস্য কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করতে হয়। এসব কারখানায় প্রায় ১৬ লাখ ৮০ হাজার শ্রমিক কাজ করেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে নারায়ণগঞ্জের আরও প্রায় ২০টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। এসব কারখানায় কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) বলেন, নারায়ণগঞ্জ এলাকার তুলনামূলক বড় কারখানাগুলোতে উৎপাদন স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন মালিকেরা।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের পোশাক কারখানাগুলো। শ্রমিকদের কাজে যোগ না দেওয়া কিংবা হামলার আশঙ্কায় এ অঞ্চলের ৩৮২টি কারখানা সোমবার বন্ধ রাখা হয়। এসব কারখানায় প্রায় ৯ লাখ শ্রমিক কর্মরত। এ ছাড়া সাভারের আশুলিয়া ও জিরাবো এলাকায় ২২৩টি এবং ঢাকার মিরপুরে ৬৫টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। এর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের প্রায় ২০টি কারখানার উৎপাদন বন্ধের তথ্য যুক্ত হয়েছে।

গাজীপুরে মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশ-বিজিবির সঙ্গে সংঘর্ষ

সোমবার সকাল থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈরের সফিপুর পল্লী বিদ্যুৎ ও চন্দ্রা মোড় এলাকায় হাজার হাজার শ্রমিক জড়ো হতে থাকেন। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই তাঁরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও অবরোধ শুরু করেন। এতে ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়। মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে দূরপাল্লার যানবাহন দীর্ঘ সময় আটকে থাকে।

বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান চালান। প্রথমে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে বিজিবির একজন সদস্য গুরুতর আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর এলাকায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেখানে পুলিশের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সময় টেলিভিশনের একজন প্রতিবেদক ও একজন ক্যামেরাপারসন হামলার শিকার হন। তাঁদের ক্যামেরা ভাঙচুর ও মারধর করা হয়। স্থানীয় সূত্রে এর আগেও দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা, শারীরিক নির্যাতন ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, শ্রমিকদের অব্যাহত বিক্ষোভের মুখে ঝুঁকি এড়াতে দেড় শতাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গাজীপুর জেলা পুলিশ, মহানগর পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও বিজিবি যৌথভাবে কাজ করছে।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, সকালে মূল কারখানার শ্রমিকদের অনেকে বিক্ষোভ শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন। তবে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের মধ্যে প্রকৃত শ্রমিকের বাইরেও অন্যদের উপস্থিতি থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় বেলা ১টার পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

আশুলিয়া-সাভারে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ, কাভার্ডভ্যানে আগুন

গাজীপুরের পাশাপাশি আশুলিয়া ও সাভারের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলেও সকাল থেকে শ্রমিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে নিউএজ গ্রুপের একটি কারখানার শ্রমিকেরা সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে তাঁরা কারখানা থেকে বেরিয়ে আশপাশের বিভিন্ন কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা হা-মীম গ্রুপের একটি কারখানার সামনে বিক্ষোভ করলে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এরপর শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের ছোড়া ইটের আঘাতে পুলিশের একজন সদস্য আহত হন।

এদিকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় বেঙ্গল প্লাস্টিক পাইপস লিমিটেডের কারখানার সামনেও শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন। এ সময় কারখানা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে জিরাবো থেকে কাঠগড়া সড়কের বিভিন্ন কারখানার সামনে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে ওই এলাকার কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

সকাল ১০টার দিকে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের ঘোষবাগ এলাকায় বিভিন্ন কারখানার সামনে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় বিক্ষোভের মধ্যে একটি কাভার্ডভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। দুপুর ১টার দিকেও একই এলাকায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় দুজনকে আটক করা হয়।

আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিক অসন্তোষের ধারাবাহিকতায় আশুলিয়া ও সাভারের অনেক কারখানার শ্রমিক কাজ না করে বেরিয়ে গেছেন। আশপাশের যেসব কারখানায় উৎপাদন চলছিল, সেখান থেকেও শ্রমিকদের বের করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নরসিংহপুর এলাকায় শ্রমিকদের একটি অংশ সড়কে নেমে ব্যারিকেড দিচ্ছেন, আগুন জ্বালাচ্ছেন এবং যানবাহনে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করছেন। নরসিংহপুর, বিশমাইল ও কাঠগড়া এলাকার অধিকাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আন্দোলনে বহিরাগত দুষ্কৃতকারীদের যোগ দেওয়ার তথ্য তাঁদের কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

দেশের প্রধান পোশাকশিল্প অঞ্চলগুলোতে একযোগে উৎপাদন বন্ধ ও শ্রমিক অসন্তোষের কারণে তৈরি পোশাক খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। তবে দিন শেষে কতটি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল এবং কতগুলোতে পুনরায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies