Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
জাতীয়

ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবির অধ্যাপক, খরচ ৮২ শতাংশ কমার দাবি

ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবির অধ্যাপক, খরচ ৮২ শতাংশ কমার দাবি

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ন্যানোটেকনোলজি গবেষক অধ্যাপক মো. জাভেদ হোসেন খানের উদ্ভাবিত ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পেটেন্ট অফিস। দীর্ঘ পাঁচ বছর দুই মাস অপেক্ষার পর গত রোববার (২৫ অক্টোবর) এ অনুমোদন পান তিনি। গবেষকের দাবি, উদ্ভাবিত এ সার ব্যবহার করা গেলে প্রচলিত ইউরিয়ার তুলনায় সার প্রয়োগের খরচ প্রায় ৮২ শতাংশ কমানো সম্ভব।

অধ্যাপক জাভেদ হোসেন খানের হিসাব অনুযায়ী, প্রচলিত ইউরিয়া সার ব্যবহার করে এক বিঘা জমিতে চাষাবাদে যেখানে প্রায় ৪ হাজার ২০০ টাকা ব্যয় হয়, সেখানে ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহারে খরচ হবে মাত্র ২৩০ টাকা। স্প্রে মেশিনের মাধ্যমে জমিতে এ সার প্রয়োগ করতে হবে।

তবে খরচ কমার এ হিসাব গবেষকের দাবি। বাণিজ্যিক উৎপাদন ও ব্যাপক কৃষি ব্যবহারের আগে বিভিন্ন ফসল ও মাটিতে এর কার্যকারিতা, প্রয়োগমাত্রা এবং ফলনের ওপর প্রভাব স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে ন্যানোটেকনোলজি গবেষণার বিকাশে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন অধ্যাপক জাভেদ হোসেন খান। ২০১৩ সাল থেকে তিনি যবিপ্রবিতে নিজস্ব গবেষণাগার পরিচালনা করছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ন্যানো-বায়ো অ্যান্ড অ্যাডভান্সড মেটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং (ন্যাম) ল্যাবে ন্যানোটেকনোলজি ও উন্নত উপকরণ নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। ২০২৫ সালে তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ফেলো নির্বাচিত হন।

গবেষকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্টের জন্য আবেদন করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পেটেন্ট অনুমোদন পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক জাভেদ হোসেন খান।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর রোববার পেটেন্টের অনুমোদন পেয়েছেন। এ অর্জনের পেছনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর আন্তরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

অধ্যাপক জাভেদ হোসেন খান বলেন, দেশের মাটি, কৃষি ও কৃষকের স্বার্থকে সামনে রেখেই তাঁরা কাজ করছেন। ন্যানো ইউরিয়া কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে ইউরিয়া সারের ব্যবহার দক্ষতা বাড়ানো, সারের অপচয় কমানো, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং ফসলের ফলন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে পরিবেশের ওপর যে চাপ তৈরি হয়, তা কমাতেও এ প্রযুক্তি ভূমিকা রাখতে পারে।

সংশ্লিষ্ট গবেষকদের মতে, ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদনের ফলে উদ্ভাবনটির আরও উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বাণিজ্যিক উৎপাদনের পথ তৈরি হয়েছে। তবে কৃষিক্ষেত্রে এর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা, মাঠপর্যায়ে ফলাফল যাচাই এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা জরুরি।

পেটেন্ট অনুমোদনকে যবিপ্রবি ও দেশের জন্য গৌরবের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইয়ারুল কবীর। তিনি বলেন, জাভেদ হোসেন খানের দীর্ঘদিনের সাধনা ও গবেষণার ফসল ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারসহ পুরো জাতির জন্য গর্বের।

উপাচার্যের মতে, এ উদ্ভাবন দেশের কৃষি খাতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। প্রচলিত ইউরিয়া সারের তুলনায় সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে ফসলের পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং ইউরিয়া আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে ন্যানো ইউরিয়ার কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয়, দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ও মাঠপর্যায়ের ফলাফল যাচাই করে এর ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে হবে।

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies