Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
জাতীয়

গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যু: ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে কী ঘটেছিল, জানালেন প্রত্যক্ষদর্শী

গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যু: ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে কী ঘটেছিল, জানালেন প্রত্যক্ষদর্শী

Oplus_131072

নতুন জামালপুর ডেস্ক :
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর দিন রাজধানীর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে কী ঘটেছিল, তার বর্ণনা দিয়েছেন নিজেকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করা মোহাম্মদ মঞ্জুর সরদার।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে ওই দিনের ঘটনার বর্ণনা দেন শ্যামনগরের বাসিন্দা মঞ্জুর সরদার।
মঞ্জুর সরদারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর আদালতে যাওয়ার জন্য গাজী নজরুল ইসলাম তাকে ফোন করে ডেকে নেন। আদালতের কার্যক্রম শেষে বেলা ৩টার দিকে তারা ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটে ফিরে যান। এ সময় তার সঙ্গে আরও পাঁচ-ছয়জন ছিলেন। তারা গেস্ট রুমে খাওয়া-দাওয়া করেন। অন্যদিকে গাজী নজরুল ইসলাম তার দুই স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা কক্ষে খাবার খান বলে জানান মঞ্জুর।
তিনি বলেন, কিছুক্ষণ পর গাজী নজরুল ইসলাম দ্রুত এসে তাকে ভেতরে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তারা একটি কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। দরজা খোলার চেষ্টা করেও তারা ব্যর্থ হন।
পরে কক্ষটির পেছনের দিকে গিয়ে একটি জানালা খোলা দেখতে পান তারা। জানালার পর্দা সরিয়ে ভেতরে তাকালে মরিয়ম খাতুনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন মঞ্জুর।
তার ভাষ্য, মরিয়মের গলায় ও ফ্যানের সঙ্গে কাপড়জাতীয় কিছু প্যাঁচানো ছিল। কক্ষের ভেতরে একটি চেয়ার ও একটি প্লাস্টিকের টুল পড়ে থাকতে দেখেন তারা।
মঞ্জুর আরও জানান, মরিয়ম জীবিত না মৃত, তা নিশ্চিত হওয়ার পর তারা দরজা-জানালা না ভেঙে পুলিশ ও মরিয়মের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে সংসদ ভবন এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। তাদের মাধ্যমে শেরেবাংলা নগর থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সবাইকে সরে যেতে বলে।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা থেকে মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে এবং এতে কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়ার কথা।
এদিকে মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ তার মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় ওবায়দুল্লাহকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘ও আমার মেয়েকে ঘর থেকে বাইরে বের করছে, ও সবকিছু করছে।’
মরিয়ম বিয়ের পর ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন বলে জানান তার বাবা। তবে বিয়ের পর মেয়ের সঙ্গে কোনো সমস্যা বা অভিযোগ হয়েছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, মরিয়ম তার কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ করেননি।
মরিয়মের কাছ থেকে পাওয়া কয়েকটি চিঠির বিষয়ে মাসুম বিল্লাহ জানান, পুলিশ তাকে সেগুলো দেখিয়েছে। তবে চিঠিগুলো তার মেয়ের হাতের লেখা কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও শ্যালক ওবায়দুল্লাহকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে।
এদিকে মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে সোমবার শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হন। পরে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে স্থানীয় নাগরিক নেতা আসাদুজ্জামান মিটু, আবুল কালাম মড়ল, রেজাউল ইসলাম, আসিসুর রহমান, নূরনগরের আবুল ইউসুফসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
বক্তারা মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের সর্বোচ্চ শাস্তি ও সাতক্ষীরা-৪ আসনে উপনির্বাচনের দাবিও জানান তারা।
বিক্ষোভ শেষে উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies