Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
জাতীয়

সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে দ্বিমত, আওয়ামী লীগ প্রশ্নে একমত

সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে দ্বিমত, আওয়ামী লীগ প্রশ্নে একমত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শুরু থেকেই জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও তাদের মিত্রদের সঙ্গে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের টানাপড়েন চলছে। এ ইস্যুতে উভয় পক্ষই পরস্পরের ওপর চাপ সৃষ্টিতে কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরতে না দেওয়ার প্রশ্নে সরকারি ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে।

বৃহস্পতিবার শেষ হওয়া সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে বিভেদ ও বিরোধ শেষ পর্যন্ত ‘বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট অপশক্তিকে’ পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এরপর শুক্রবার রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সরকারি ও বিরোধী দলের অবস্থানে ঐক্যের বার্তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পৃথকভাবে ঢাকায় প্রতিবাদ মিছিল করেছে।

এরপর শুক্রবার রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সরকারি ও বিরোধী দলের অবস্থানে ঐক্যের বার্তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পৃথকভাবে ঢাকায় প্রতিবাদ মিছিল করেছে।

সরকারি ও বিরোধী দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার সঙ্গে শুক্রবারের গুলশানের মিছিলের যোগসূত্র রয়েছে বলে তারা মনে করছেন। এ বিষয়ে দুই পক্ষের দায়িত্বশীল নেতাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। সংস্কার ইস্যুতে মতপার্থক্য থাকলেও আওয়ামী লীগ প্রশ্নে ঐক্য ধরে রাখতে ডিসেম্বরজুড়ে সরকারি ও বিরোধী দলগুলো পৃথকভাবে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে বলে জানা গেছে।

শুক্রবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি আসন ঢাকা-১৭ এলাকায় মিছিলের ঘটনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গুলশান, বনানী ও বারিধারায় নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক শক্তি আবারও মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে। ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানও বলেন, দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে আর মেনে নেওয়া হবে না।

সংস্কার ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি চাপএদিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংশোধন বা সংস্কার নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দল একে অন্যের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল নাম না দেওয়ায় একটি ছাড়া অন্য কোনো সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ তাদের দেওয়া হয়নি।

জাতীয় সংসদে বিষয়ভিত্তিক স্থায়ী কমিটি রয়েছে ১১টি এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ৩৯টি। ত্রয়োদশ সংসদের ৫০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দলকে দেওয়া হয়েছে। এ কমিটির সভাপতি হয়েছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।

সরকারি দলীয় সূত্র জানায়, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে নাম দিলে প্রয়োজনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হতে পারে। সরকারি দল এখনো বিরোধী দলের কাছ থেকে নাম পাওয়ার আশা করছে।

প্রসঙ্গত, সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে জাতীয় সংসদ। কমিটিতে বিরোধী দল থেকে পাঁচজন সদস্যের নাম দিতে বলা হলেও তারা তা দেয়নি। বিরোধী দল কমিটিটি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তারা সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে।

বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হলে আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংবিধানে জুলাই সনদের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার পরই সনদ বাস্তবায়নের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, স্বাক্ষরিত জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সরকার সেগুলো অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে।

বিরোধী দল থেকে কমিটিতে সদস্যদের নাম পাওয়ার প্রত্যাশায় বিষয়টি নিয়ে তাড়াহুড়ো করছে না সরকারি দল। ১৩ জুলাই কমিটি গঠনের পর গত ৪ আগস্ট এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এখন পর্যন্ত সেটিই কমিটির একমাত্র বৈঠক। বিরোধী দল থেকে শেষ পর্যন্ত সদস্যদের নাম পাওয়া যাবে—এমন প্রত্যাশা থেকেই বিশেষ কমিটি ধীরে এগোচ্ছে।

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies