Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
জাতীয়

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি

স্টাফ রিপোর্টার:

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছে দেশের হস্তচালিত বেকারি শিল্প। দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ না থাকা এবং গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক কারখানায় নিয়মিত উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করে উৎপাদন চালু রাখছেন উদ্যোক্তারা।

এর মধ্যে গত কয়েক মাসে বেকারি শিল্পের বিভিন্ন কাঁচামালের দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। উৎপাদন কমলেও কারখানার ভাড়া, শ্রমিকের বেতনসহ অন্যান্য খরচ কমেনি। ফলে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে না পেরে দেশের অন্তত ১ হাজার ২০০ হস্তচালিত বেকারি বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছোট বেকারিগুলো। পরিস্থিতি সামাল দিতে রুটি, বিস্কুট, পাউরুটি ও অন্যান্য বেকারি পণ্যের দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার থেকে এসব পণ্যের দাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা।

বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক রেজু বলেন, সারা দেশে সমিতির প্রায় ১২ হাজার সদস্য রয়েছেন। বর্তমানে তাদের অধিকাংশই ব্যবসায়িক সংকটের মধ্যে রয়েছেন।

গ্যাস সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিন ঘণ্টাও অনেক কারখানায় পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ থাকে না। আবার কিছু পণ্য বিদ্যুতের মাধ্যমে উৎপাদন করতে হয়। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে সেখানেও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শ্রমিকদের বসিয়ে রেখেও বেতন দিতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের।

রেজাউল হক বলেন, বেকারি শিল্পের অধিকাংশ উদ্যোক্তাই স্বল্প পুঁজির ব্যবসায়ী। উৎপাদন কমলেও ব্যয় কমছে না, বরং বাড়ছে। এতে অনেক উদ্যোক্তা দেনায় জড়িয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে অন্তত ১০ শতাংশ কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

উদ্যোক্তারা জানান, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি গত কয়েক মাসে বেকারি শিল্পের প্রায় সব কাঁচামালের দাম বেড়েছে। ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকা দামের এক বস্তা ময়দা এখন ৩ হাজার ১৫০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক বস্তা চিনির দাম ৪ হাজার ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৯০০ টাকা। প্রতি ড্রাম তেলের দাম ২ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৪০০ টাকা হয়েছে। ২ হাজার ৫০০ টাকার ডালডা এখন বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার টাকায়।

এ ছাড়া ডিমের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে ৭ টাকায় পাওয়া একটি ডিম এখন কিনতে হচ্ছে প্রায় ১১ টাকায়। একইভাবে দুধ, ইস্ট, পলিব্যাগসহ অন্যান্য উপকরণের দামও বেড়েছে। ফলে আগের দামে বেকারি পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান উদ্যোক্তারা।

সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধিতে প্রতিটি পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এ অবস্থায় আগের দামে পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়ে বর্ধিত দামে বেকারি পণ্য সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সরকারি সহযোগিতা না পেলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।

জানা গেছে, মূল্য সমন্বয়ের দাবিতে সমিতির সদস্য বেকারিগুলো গত কয়েকদিন পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ রেখেছিল। এতে বাজারে বেকারি পণ্যের সংকট দেখা দেয়। অনেক মুদি দোকানে পাউরুটি পাওয়া যায়নি। ফুটপাতের চা দোকানগুলোতেও রুটি, বিস্কুট ও কেকের সরবরাহ কমে যায়। এতে সাধারণ ক্রেতা ও শ্রমজীবী মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।

নতুন দামের বিষয়ে রেজাউল হক রেজু বলেন, ৫০ টাকার পাউরুটির দাম ৬০ টাকা, ১০ টাকার বনরুটি ১৫ টাকা এবং ১০ টাকার কেক ১৫ টাকায় বিক্রি হতে পারে। ৫ টাকার বিস্কুটের দাম আপাতত ৫ টাকা রাখা হলেও আকার কিছুটা ছোট করা হবে।

তিনি বলেন, বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সামগ্রিকভাবে পণ্যের দাম ২০ শতাংশের বেশি বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে না। তবে কোনো কোনো পণ্যের ক্ষেত্রে আকার ও ওজন সমন্বয় করে মূল্য নির্ধারণ করা হবে।

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies