Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
ইসলামপুর

ইসলামপুরে পৈতৃক পেশা ছাড়ছেন জেলেরা

ইসলামপুরে পৈতৃক পেশা ছাড়ছেন জেলেরা

মোঃ এনামুল হক
ইসলামপুর প্রতিনিধি ||

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার যমুনা নদীর পাড়ের গুঠাইল পাইলিং পার এলাকায় চলছে জেলেদের নিজেদের দীর্ঘদিনের পেশা ছেড়ে যাওয়ার হিড়িক।

উপজেলার চিনাডুলী ইউনিয়নের গুঠাইল যমুনা নদীর বাম তীরে গড়ে উঠেছে জেলে পল্লী, এখানে বসবাস করছে প্রায় ৮০ টি পরিবার, যাদের মূল পেশা নদীতে মাছ শিকার করে বাজারে বিক্রি করা। জলবায়ু পরিবর্তন ও নদীতে পানি কমে যাওয়ায় নদীতে মাছ কমে গেছে, যার ফলে বাপদাদার পেশা এখন টিকিয়ে রাখা দায় জেলেদের।

জীবিকার তাগিদে, গুঠাইল জেলে পল্লীর শ্রী মোহন চন্দ্র দাস, পুলক দাস, রমণী দাস সহ আরও কয়েকজন জেলে জাল ছেড়ে এখন ইজিবাইক চালাচ্ছেন। তাদের মতো আরও অনেক জেলে প্রস্তুতি নিয়েছেন অন্য পেশায় গিয়ে জীবিকা নির্বাহ করার।

গুঠাইল পাইলিং পারে জেলে নবীন চন্দ্র দাস (৫৬) বলেন, নদ-নদীতে তেমন মাছ নেই। জালে মাছ উঠছে না। তারা নিরুপায় হয়ে পড়েছেন। সংসার ঠিক মতো চালাতে পারছেন না, মাছ ধরে। তাই বাধ্য হয়েই অনেকে পৈতৃক পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় যোগদান করে আয় করছেন। অনেকেই প্রস্তুতি নিয়েছেন পৈতৃক পেশা ছেড়ে দেবেন। নদ-নদীতে মাছ না থাকায় আমাদের কষ্ট বেড়ে গেছে। আমাদেরকে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে।

উপজেলার ফকিরপাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী এলাকার আপন চন্দ্র দাস (৩৬) বলেন, জালের সাথে আমাদের নিবিড় সম্পর্ক কিন্তু জাল দিয়ে আর সংসার চালানো যাচ্ছে না, তাই বাধ্য হয়ে অন্য পেশা আয় করার চেষ্টা করছি।

ইসলামপুর উপজেলা যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, দশআনি, হলহলিয়া বিল সহ ৬টি নদ-নদীর পাড়ে প্রায় ১৮০টি জেলে পল্লী রয়েছে। এসব জেলে পল্লীতে প্রায় ২৬শ ১০ টি পরিবারের বসবাস করে এদিকে ৮ অক্টোবর থেকেশুরু হয়েছে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা, এই নিষেধাজ্ঞা চলবে ২৯ অক্টোবর মোট ২২ দিন। সরকারি ভাবে জেলে পরিবারগুলোতে খাদ্য সহায়তা করার কথা রয়েছে। প্রতি বছর নিষেধাজ্ঞার সময় ২৫ কেজি চাল বিতরণ করা হয় প্রতিটি পরিবারেরর মাঝে, যা যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন জেলে পরিবারগুলো। তাদের দাবী সহায়তা বৃদ্ধি সহ জেলেদের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে জেলের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে ভূমিকা পালন করবে সংশ্লিষ্ট কৃর্তপক্ষ এমনটাই দাবি পরিবারেরগুলোর।

এবিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম রিয়েল জানান, দিন দিন পেশাদার জেলের সংখ্যা কমে আসছে। জেলেরা কারেন্ট জাল দিয়ে মাছের পোনা শিকার করার কারণে নদ-নদীতে মাছের বৃদ্ধি হচ্ছে না। তাদেরকে সচেতন করা হচ্ছে, সরকারিভাবে যতটুকু প্রণোদনা আসে ততটুকু তাদের মাঝে বণ্টন করা হয়।

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies