একসময় জামালপুর শহর ছিল প্রকৃতির এক অপূর্ব আশ্রয়। চারদিকে সবুজের সমারোহ, পুকুর-দিঘি, খাল-বিল, গাছপালা আর ব্রহ্মপুত্রের প্রশস্ত বুক।
সব মিলিয়ে শহরটি ছিল শান্ত, স্নিগ্ধ ও নির্মল। আজকের ব্যস্ত, কংক্রিটে ঢাকা জামালপুরের সঙ্গে সেই শহরের যেন কোনো মিলই নেই।
শহরের অলিগলিতে একসময় ছিল অসংখ্য পুকুর। বর্ষায় পুকুরের পানিতে আকাশের মেঘের ছায়া পড়ত, শীতের সকালে কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকত চারপাশ। পাড়জুড়ে ছিল নারকেল, সুপারি, আম, জাম, কাঁঠাল, কৃষ্ণচূড়া, বকুলসহ নানা গাছ। পাখির ডাকেই অনেকের ঘুম ভাঙত। বিকেলে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা, পুকুরঘাটে আড্ডা আর গাছের ছায়ায় মানুষের বিশ্রাম ছিল শহুরে জীবনের স্বাভাবিক দৃশ্য।
জামালপুরের প্রাণ ছিল ব্রহ্মপুত্র। নদীর ঘাটগুলো ছিল মানুষের মিলনস্থল। নৌকায় যাতায়াত, মাছ ধরা, পণ্য পরিবহন কিংবা বিকেলের নদীর পাড়ে বসে থাকা সবকিছুতেই ছিল এক ধরনের সহজ সৌন্দর্য। দেওয়ানপাড়া, গোদারাঘাট, এসডিও ঘাট, কালিঘাট কিংবা ছোটন মিয়ার ঘাটে নদীকেন্দ্রিক জীবনের যে দৃশ্য ছিল, তা এখন অনেকটাই স্মৃতি।
সময়ের সঙ্গে শহর বড় হয়েছে। নতুন ভবন, সড়ক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহন বেড়েছে। কিন্তু সেই সঙ্গে কমেছে খোলা জায়গা, জলাশয় ও সবুজ। একের পর এক পুকুর ভরাট হয়েছে, গাছ কাটা পড়েছে, খাল দখল ও দূষণে হারিয়েছে স্বাভাবিক প্রবাহ। ফলে হারিয়ে গেছে শহরের সেই প্রাকৃতিক ভারসাম্যও।
জামালপুরের উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু উন্নয়ন মানে প্রকৃতিকে মুছে ফেলা নয়। হারিয়ে যাওয়া পুকুর, খাল, গাছ ও নদীর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগই পারে শহরকে আবার বাসযোগ্য করে তুলতে। পুরোনো জামালপুর হয়তো হুবহু ফিরবে না, কিন্তু তার প্রকৃতির স্মৃতি থেকে ভবিষ্যতের একটি সবুজ শহর গড়ে তোলা সম্ভব।




