জাবিপ্রবি প্রতিনিধি ||
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইমরুল কবিরকে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিনির্ধারণী পদে দায়িত্ব দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অতীতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন’ কমিটিতে তাঁর স্থান পাওয়া নিয়ে সমালোচনা হলেও, সম্প্রতি তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ ও পদোন্নয়ন (আপগ্রেডেশন) নীতিমালা’ সংশোধন সংক্রান্ত আরেকটি অতি সংবেদনশীল কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে, গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক অফিস আদেশে ‘শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ ও পদোন্নয়ন নীতিমালা ২০২২’ সংশোধন, সংযোজন ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ৭ সদস্য বিশিষ্ট উক্ত কমিটির ৫ নম্বর ক্রমিকে সদস্য হিসেবে স্থান পেয়েছেন সহকারী অধ্যাপক ইমরুল কবির।
এর আগে, গত ০২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ উদযাপনের লক্ষ্যে গঠিত ১০ সদস্যের মূল কমিটিতেও সদস্য হিসেবে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। তৎকালীন সরকারের সমর্থনে পরিচালিত ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচি ও দিবসে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণের একাধিক আলোকচিত্র ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও ক্যাম্পাসে চাউর হওয়ার পরও পর পর দুটি প্রশাসনিক কমিটিতে তাঁর নাম আসায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
ইমরুল কবির প্রসঙ্গে ছাত্রদলের সদস্যসচিব যীনাত মিয়া আজিজুলের বলেন, “ক্যাম্পাসের স্বৈরাচার ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে ছাত্রদল সর্বদা সোচ্চার। আমরা প্রশাসনকে বলব ওনার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য। ক্যাম্পাসে দায়িত্বগুলো পুনর্বণ্টন করে দেওয়া উচিত। এই ক্ষেত্রে নতুন শিক্ষক হইতে পারে, পুরানো হইতে পারে।”
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির জাবিপ্রবি শাখার সেক্রেটারি ফাহাদ আহমেদ বলেন, “ইমরুল কবিরের অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘদিনের স্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনিক যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অতীত ভূমিকা ও অভিযোগসমূহ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। ইমরুল কবিরের অতীত কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে অবস্থান স্পষ্ট করার জোর দাবি জানাচ্ছি।”
জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবিপ্রবি শাখার আহ্বায়ক লিটন আকন্দ বলেন, “৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে আমাদের স্পষ্ট দাবি ছিল, জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া বা গণতন্ত্রবিরোধী ব্যক্তিদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা যাবে না, যার ভিত্তিতে প্রজ্ঞাপনও জারি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন যদি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে জুলাই বিরোধীদের কমিটিতে স্থান দেয়, তবে তা জুলাইয়ের মহান আত্মত্যাগের সাথে চরম অসঙ্গতি৷ যেহেতু একজন জুলাই বিরোধী শিক্ষকের নাম এখানে এসেছে, ওনার বিরুদ্ধে তদন্ত করে, প্রশাসনের কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া দরকার।”
এই প্রসঙ্গে সহকারী অধ্যাপক ইমরুল কবির বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন হলে থাকার বাধ্যবাধকতার কারণে প্রথম বর্ষে প্রোগ্রামে যেতে হয়েছে। তবে আমার কোনো পদ-পদবি ছিল না৷ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বা অন্য কোথাও যদি ভুলবশত কোনো মন্তব্য হয়ে থাকে, তবে তা যে আমার করা উচিত হয়নি, তা আমি স্বীকার করেছি৷ জুলাইয়ের সময় আমি গণবিরোধী বা শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে কোনো অবস্থানে ছিলাম না। বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। প্রশাসন যোগ্যতা বিবেচনা করে পদ দিলে দায়িত্ব পালন করব।”
ক্যাম্পাসের অংশীজনদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে নীতিনির্ধারণী কমিটিগুলো অনতিবিলম্বে পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।




