Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
জামালপুর

আমনে আশা দেখছেন কৃষক: দাম নিয়ে আছে শঙ্কা

আমনে আশা দেখছেন কৃষক: দাম নিয়ে আছে শঙ্কা


বন্যা না হওয়ায় এবার প্রায় সময়মতোই জামালপুরের বিভিন্ন উপজেলায় আমনের চাষাবাদ শুরু হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টিতে মাঠে এখন সবুজ ধানের সমারোহ। মাঠের পর মাঠজুড়ে দুলছে আমনের চারা। কৃষকের চোখে ভালো ফলনের আশা, তবে সেই আশার সঙ্গে রয়েছে ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কাও।

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন আমনের সবুজ আভা। কোথাও ধানগাছ বেড়ে উঠছে, কোথাও কৃষক ব্যস্ত পরিচর্যায়। অনেক জমিতেই ধানের শীষ বের হওয়ার অপেক্ষা। কৃষকেরা বলছেন, এ বছর বড় বন্যা বা প্রতিকূল আবহাওয়ার তেমন প্রভাব না থাকায় আমনের আবাদ তুলনামূলক স্বস্তিতেই করা গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় আমনের আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৫৯২ হেক্টর জমিতে। গত বছর এ উপজেলায় আমনের আবাদ হয়েছিল ১০ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আবাদ বেড়েছে ১ হাজার ১২২ হেক্টর।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো: রতন মিয়া জানান, সময়মতো চাষাবাদ শুরু হওয়া এবং জমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকায় এবার আমনের আবাদে কৃষকদের আগ্রহও বেড়েছে। জমিতে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় অনেক কৃষকই ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন।

দেওয়ানগঞ্জে আমনচাষি সফিকুল ইসলাম বলেন, বন্যা না হওয়ায় এবার ধান লাগাতে তেমন সমস্যা হয়নি। সময়মতো জমি তৈরি করে চারা রোপণ করা গেছে। এখন পর্যন্ত ধানের অবস্থা ভালো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছেন তিনি। তবে সার পেতে প্রথমদিকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল বলে জানান তিনি। তাছাড়া ডিলার পয়েন্ট দূরে হওয়ার কারনে সার পরিবহনে বাড়তি খরচের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে কৃষি অফিস জানায়, পর্যাপ্ত সারের মজুদ আছে। কৃষকদের সার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। এবং সারের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য ফার্টিলাইজার ডিস্ট্রিবিউশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম নামে একটি ওয়েবসাইটও চালুর কথা জানানো হয়। এছাড়াও ডিলাররা যাতে তাদের নির্দিষ্ট এলাকায় সার বিতরণ করেন সে বিষয়েও কাজ করার কথা জানানো হয়।

তবে ভালো ফলন হলেও কৃষকের শঙ্কা দাম নিয়ে। আমনচাষী সফিকুল ইসলাম বলেন, কিন্তু ধান ঘরে তোলার পর বাজারে কী দাম পাওয়া যাবে, সেটিই এখন বড় চিন্তার বিষয়। গত মৌসুমে ধানের দাম আশানুরূপ না থাকায় উৎপাদন খরচ তুলতে গিয়ে অনেক কৃষককে হিমশিম খেতে হয়েছে। এবারও যদি এরকম হয় তাহলে ধান চাষে আর আগ্রহ থাকবে না।

কয়েকজন আমনচাষী জানান, সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরিসহ আমন চাষে প্রতিবছরই উৎপাদন খরচ বাড়ছে। ফলে ভালো ফলন পাওয়ার পাশাপাশি ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে কৃষকের লাভ খুব একটা থাকে না। বিশেষ করে মৌসুমের শুরুতে বাজারদর কমে গেলে উৎপাদন খরচের তুলনায় কৃষকের হাতে খুব কম টাকা থাকে।

এবারও তাই মাঠে ধানের সবুজ সমারোহ কৃষকের মনে আশার সঞ্চার করলেও বাজারদর নিয়ে আগাম নিশ্চয়তা না থাকায় সেই আশার সঙ্গে শঙ্কাও রয়েছে।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১১ হাজার ৫৯২ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। বন্যা না হওয়ায় এবং আবহাওয়া মোটামুটি অনুকূলে থাকায় আমনের আবাদ ভালো হয়েছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত কাজ করছেন।

তিনি বলেন, ধানের ফলন নির্ভর করবে আবহাওয়ার ওপর। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমনের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে ভালো ফলনের সুফল কৃষকের ঘরেও পৌঁছাবে।

কৃষকদের প্রত্যাশা, ধান কাটার মৌসুমে বাজারে যেন ন্যায্য দাম থাকে। উৎপাদন খরচ বিবেচনায় নিয়ে ধানের মূল্য নির্ধারণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা কার্যকর থাকলে আমনের ভালো ফলন কৃষকের জন্য সত্যিকারের স্বস্তি বয়ে আনবে।

সবুজে ভরা মাঠ তাই এবার কৃষকের সামনে সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে। কিন্তু সেই সম্ভাবনা কতটা হাসিতে পরিণত হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে ধান ঘরে ওঠার পরের বাজারদরের ওপর। ফলন ভালো হওয়ার আশা যেমন কৃষককে আমা দেখাচ্ছে, তেমনি ধানের দাম নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছে নিরাশাও।

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies