জেলা প্রতিনিধি, জামালপুরঃ
জামালপুরের একটি গ্রামে ৩০৮টি পরিবারের মধ্যে ২০৮টি পরিবারের সদস্যকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এসআই আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর ৩টার দিকে জামালপুর সদর উপজেলার ১২ নম্বর তিতপল্লা ইউনিয়নের চরশী খলিফাপাড়া এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযুক্ত এসআই আনোয়ার হোসেন চরশী খলিফাপাড়ার মৃত আতাউর রহমান আতাবালীর ছেলে। বর্তমানে নওগাঁ জেলার বদলগাছী থানায় কর্মরত রয়েছেন।
জানা গেছে, এসআই আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, গ্রামের ৩০৮টি পরিবারের মধ্যে ২০৮টি পরিবারের সদস্যকে বিবাদী করে জামালপুর জজ আদালতে বাটোয়ারা মামলা করা হয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মাওলানা ওবায়দুর রহমানের জমি দখলের চেষ্টা, ফসল নষ্টের হুমকি এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানোর অভিযোগও করেছেন তাঁরা।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী মমতা বেগম বলেন, ‘আমাদের গ্রামের ২০৮টি পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন আনোয়ার দারোগা। আমি একজন নারী। এসবের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তাহলে আমাকে কেন মামলায় জড়ানো হলো? আমি এর বিচার চাই।’
এলাকার বাসিন্দা শহীদ বলেন, ‘আমাদের এলাকার ছোট-বড়, নারী-পুরুষ সবাইকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। সবাইকে হয়রানির মধ্যে রাখা হচ্ছে। আমার নামে মামলা না দিলেও প্রতিবাদ করলে আমার বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমরা আনোয়ার দারোগার বিচার চাই।’
তিতপল্লা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হানি শেখ বলেন, ‘আমাদের এলাকার ছেলে আনোয়ার দারোগা হয়ে গ্রামের ৩০৮টি পরিবারের মধ্যে ২০৮টি পরিবারকে মামলায় জড়িয়েছেন। আমাকে গালিগালাজ ও অপপ্রচার চালিয়ে মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করেছেন। এত মানুষের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারে সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে এসআই আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে মানববন্ধন করা হয়েছে, সেখানে মূলত লোক ভাড়া করে আনা হয়েছে। ওবায়দুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে আমার জমি দখল করে ভোগদখল করে আসছেন। আমাদের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে আদালতে বাটোয়ারা মামলা করেছি। এলাকার আরও কয়েকজন আমাদের সম্পত্তি দখল করে রেখেছেন। এ কারণেই আমরা মামলা করেছি।’




