নিজস্ব প্রতিবেদক:
শিক্ষাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘AI for Teachers’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জামালপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলার ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৭ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালাটি পরিচালনা করেন ড. আব্দুল মজিদ তালুকদার ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মুহাম্মদ আলী। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ খাজা জিয়াউল হক।
কর্মশালার পুরো কার্যক্রম ছিল হাতে-কলমে অনুশীলননির্ভর। অংশগ্রহণকারী শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিজেদের স্মার্টফোন ও ল্যাপটপ ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যবহারিক কাজ সম্পন্ন করেন। এর মাধ্যমে পাঠ পরিকল্পনা তৈরি, ওয়ার্কশিট ও হ্যান্ডআউট প্রস্তুত, প্রশ্নপত্র তৈরি এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নসহ শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের কৌশল সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা লাভ করেন।
প্রশিক্ষণে শিক্ষকদের দৈনন্দিন কাজ সহজ করা, সময় ও শ্রম সাশ্রয় এবং পাঠদানকে আরও কার্যকর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে এআইয়ের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি প্রযুক্তিটির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষক মুহাম্মদ আলীর প্রত্যাশা, কর্মশালা থেকে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা তাঁদের পাঠদান ও মূল্যায়ন কার্যক্রমে এআইকে সহকারী হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। এতে অল্প সময়ে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি তাঁদের কর্মদক্ষতা ও সৃজনশীলতা বাড়বে।
কর্মশালায় বলা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনোই শিক্ষকের বিকল্প নয়; বরং এটি শিক্ষকের কাজকে আরও সহজ ও গতিশীল করার একটি কার্যকর সহায়ক প্রযুক্তি। শিক্ষকের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে পারলে শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
প্রশিক্ষণ শেষে প্রধান অতিথি শেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ খাজা জিয়াউল হক অংশগ্রহণকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হাতে সনদ তুলে দেন। এ সময় তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বর্তমান ব্যবহার ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে শিক্ষাদান ও মূল্যায়ন কার্যক্রমকে আরও সহজ, কার্যকর ও সময়োপযোগী করে তুলতে এআইয়ের যথাযথ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও শেখার আগ্রহের মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। শিক্ষায় প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে শিক্ষকতা পেশাকে আরও দক্ষ, সৃজনশীল ও সময়োপযোগী করে তোলাই এ ধরনের প্রশিক্ষণের অন্যতম লক্ষ্য।
শিক্ষকদের এআই প্রশিক্ষণ, শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব
React:




