নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের নরম আলো ফুটতেই দূর্বাঘাসের ডগায় চিকচিক করছে শিশিরবিন্দু। রাতের শেষ প্রহরে মাঠ-ঘাটে জমছে শিশির, ভোরের বাতাসেও মিলছে হালকা শীতল অনুভূতি। প্রকৃতিতে যেন জানান দিচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের। জামালপুরের গ্রামাঞ্চলে এমন দৃশ্যকে ঘিরে অনেকের মধ্যেই শুরু হয়েছে শীতের আগমনী অনুভূতি।
তবে আবহাওয়াবিদদের তথ্য বলছে, এখনই শীতের মূল মৌসুম শুরু হচ্ছে না। সেপ্টেম্বরের শেষ ভাগে দেশের আবহাওয়া এখনও মৌসুমি বায়ু ও আর্দ্রতার প্রভাবে রয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং দিনের তাপমাত্রাও এখনো ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকার প্রবণতা রয়েছে।
জামালপুরের আগামী কয়েক দিনের কৃষি-আবহাওয়া পূর্বাভাসেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩২ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ২৫ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ রাত ও ভোরে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও এখনো তা শীতের পর্যায়ে নামেনি।
২৬ সেপ্টেম্বর জামালপুরের আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতেও তাপমাত্রা প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একটি বেসরকারি আবহাওয়া পূর্বাভাস সেবায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
কবে আসতে পারে প্রকৃত শীত?
বাংলাদেশে শীতের অনুভূতি সাধারণত উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আগে বাড়তে শুরু করে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে শিশির পড়া শুরু হলেও এটিকে পূর্ণাঙ্গ শীতের সূচনা বলা যায় না। সাধারণত অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বরের দিকে রাতের তাপমাত্রা ক্রমে কমতে থাকে এবং নভেম্বরের শেষভাগ থেকে ডিসেম্বরের শুরুতে শীতের অনুভূতি স্পষ্ট হয়। এরপর ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে শীতের তীব্রতা বাড়ে।
জামালপুরে সকালের শিশিরকে বলা যায় শীতের আগমনের প্রাথমিক আভাস, তবে পূর্ণাঙ্গ শীতের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েক সপ্তাহ। তাপমাত্রার ধারাবাহিক পতন, ভোরের কুয়াশা এবং উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকের শুষ্ক ঠান্ডা বাতাসের প্রবাহ বাড়লেই শীতের উপস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
প্রকৃতির ক্যালেন্ডারে সেই পরিবর্তনের প্রস্তুতি অবশ্য শুরু হয়ে গেছে। ভোরের ঘাসে শিশির, আর রাতের বাতাসে বাড়তে থাকা শীতলতা জানান দিচ্ছে, বর্ষার বিদায়পর্ব পেরিয়ে জামালপুর ধীরে ধীরে এগোচ্ছে শীতের দিকে।




