Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
জামালপুর

রাজিবের দাপটের রুটে নেই বিকল্প, দুর্ঘটনায় ২০ মাসে নিহত ১১

রাজিবের দাপটের রুটে নেই বিকল্প, দুর্ঘটনায় ২০ মাসে নিহত ১১

হৃদয় আহম্মেদ, স্টাফ রিপোর্টারঃ

রাজিব পরিবহনের দাপটে জামালপুরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথে বিকল্প গণপরিবহন গড়ে ওঠেনি এমন অভিযোগ স্থানীয় যাত্রীদের। দীর্ঘদিনের একক আধিপত্যের কারণে অন্য পরিবহনের বাস চলাচলের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে বলে দাবি তাদের। আর এই রুটে বারবার দুর্ঘটনায় গত ২০ মাসে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১১ জন।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ মাসে রাজিব পরিবহনের বাসে অন্তত আটটি সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত ও ৪২ জন আহত হয়েছেন। সর্বশেষ ৩১ আগস্ট রাতে জামালপুর সদর উপজেলার লাহিড়ীকান্দা এলাকায় রাজিব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে বাসটির সহকারীসহ চারজন নিহত হন ও আহত হয় অন্তত ২০ জন।

এর আগেও বিভিন্ন সময়ে রাজিব পরিবহনের বাসের সঙ্গে অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ভটভটি ও ট্রাকের সংঘর্ষের একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে জেলার বাস মালিক সমিতির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত রাজিব পরিবহনের বাসে একের পর এক দুর্ঘটনার তথ্য উঠে এসেছে। সর্বশেষ দুর্ঘটনার পর পরিবহনটির বাস চলাচল বন্ধের দাবিতে ‘ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে আন্দোলন শুরু হয়।

গত বুধবার নান্দিনা বাজার এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন স্থানীয় লোকজন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটলেও বাস কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

এর ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার রাজিব পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন ছাত্রশক্তি, যুবশক্তিসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ রয়েছে, কর্মসূচি চলাকালে পরিবহনশ্রমিকদের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি হামলা চালিয়ে প্রতিবাদকারীদের মারধর করেন। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরিবহনটির একের পর এক দুর্ঘটনার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করলেও তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে আন্দোলনের সময় রাজিব পরিবহনের দুটি বাস আটকে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া, চালক ও সহকারীদের মারধর এবং বাস ভাঙচুরের অভিযোগ করেছেন পরিবহনশ্রমিক নেতারা।

স্থানীয় একাধিক যাত্রীর অভিযোগ, রাজিব পরিবহনের বাসগুলো প্রায়ই অতিরিক্ত গতিতে চলাচল করে। যত্রতত্র বাস থামানো, চালকদের দায়িত্বহীন আচরণ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এসব বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

জামালপুর–ঢাকা রুটে ময়মনসিংহ হয়ে রাজিব পরিবহনের ৫৫ থেকে ৬০টি বাস চলাচল করে। এর বাইরে বিআরটিসি, শেরপুর ট্রাভেলসসহ হাতে গোনা কয়েকটি বাস চলাচল করে। এ ছাড়া আন্তজেলা বাস টার্মিনাল, স্থানীয়ভাবে টাঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড নামে পরিচিত এলাকা থেকে টাঙ্গাইল হয়ে ঢাকায় বিভিন্ন নামে প্রায় ৫০টি বাস চলাচল করে।

তবে এসব বাসের অধিকাংশের সেবার মান নিয়েও যাত্রীদের অভিযোগ রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে জামালপুরের গুরুত্বপূর্ণ এই রুটের পরিবহনব্যবস্থায় রাজিব পরিবহনের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

রাজিব পরিবহনের বাসের দুর্ঘটনা ও পরিবহনব্যবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। কেউ কেউ বাসের গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের লাইসেন্স ও মাদকাসক্তি পরীক্ষা, যত্রতত্র বাস থামানো বন্ধ এবং নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী রাকিব বলেন, বিকল্প গণপরিবহনের সুযোগ সীমিত থাকায় এই রুটের যাত্রীদের বাধ্য হয়েই রাজিব পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। পরিবহনের প্রভাবের কারণে অন্য পরিবহনগুলোকে এ রুটে চলাচলের যথাযথ সুযোগ ও অনুমতি দেওয়া হয় না। ফলে যাত্রীদের গুটিকয়েক পরিবহনের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হচ্ছে।

আরেক শিক্ষার্থী খোকন মিয়া বলেন, রাজিব পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে পুরো জেলার পরিবহনব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। কারণ, গুরুত্বপূর্ণ এসব রুটে বিকল্প গণপরিবহনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। তাই দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের জন্য বিকল্প, নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি আমাদের।

জামালপুরের পাথালিয়া এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে বিকল্প পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

রাজিব পরিবহনের বাস পরিচালনা করে জামালপুর জেলা বাস মালিক সমিতি। যাত্রীদের অভিযোগ ও সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আরও যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমাধান করে রাজিব পরিবহনের আধুনিকায়ন করা হবে।

জামালপুরে আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা ও উদ্যোগ ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ময়মনসিংহ হয়ে ঢাকায় চলাচলকারী রুটে এসি বাস চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রাজিব পরিবহনের ফিটনেসবিহীন বাসগুলো বাতিল করা হয়েছে। মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানোও বন্ধ করা হবে। পাশাপাশি বাসে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে নিরাপত্তা ও গতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনে হামলার অভিযোগের বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম আব্দুল্লাহ-বিন-রশিদ বলেন, রাজিব পরিবহনের বাসসেবা নিয়ে পরিবহনশ্রমিক নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। সেখানে যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি উঠে এসেছে। বাসসেবা কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় উঠে আসা অন্যান্য সমস্যাও সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies